
নয়া দিল্লি: ট্যারিফ বৃদ্ধি করা নয়, জিও-র উদ্দেশ্য হল, গ্রাহক পিছু রেভিনিউ বৃদ্ধি করা। জিও-র আইপিও ঘোষণার অনুষ্ঠানে একথাই বললেন সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ অম্বানী। এই আইপিও দেশের মধ্যে বৃহত্তম হতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
অম্বানীদের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয় মুম্বইতে। সেখানেই আকাশ অম্বানী জানান, ডেটি পিছু খরচ না বাড়িয়ে আরও বেশি পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবছে জিও। তাঁর কথায়, জিও-র উদ্দেশ্য হল, প্রত্যেক ভারতবাসী, প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। সাধ্যের মধ্যে উচ্চমানের পরিষেবা দিতে যে জিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে কথাও উল্লেখ করেছেন আকাশ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ধারনা, মেক ইন ইন্ডিয়া ও বিকশিত ভারতের উদ্য়োগ থেকে জিও অনুপ্রাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুম্বইয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অম্বানী বলেন, “আমাদের কাছে মূল্য বাড়ানোর ক্ষমতা সবসময়ই রয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে ট্যারিফ বা দাম ভবিষ্যতে বাড়ানো হবে কি না, তার সময়সীমার কথা বলেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে জিও বাজারে আসার পর থেকে ভারতের মাথাপিছু আয়ের অনুপাতে গ্রাহকদের টেলিকম খরচ অর্ধেকে নেমে প্রায় ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অম্বানী জানান, প্রতি গিগাবাইট ডেটার গড় দাম যেখানে ৭.৫ টাকা, সেখানে জিও গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্র ৪.৯ টাকা চার্জ নেওয়া হয়, অথচ তাদের গ্রাহকরা মাসে গড়ে ৪৩.৭ জিবি ডেটা ব্যবহার করেন। এছাড়া ভারতের মোট ওয়্যারলেস ডেটা ট্রাফিকের ৬০ শতাংশেরও বেশি জিও বহন করে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি ডিজিটাল অর্থনীতি প্রত্যাশা করছি, আর এই বাজারের একটি বিশাল অংশ আমরা অর্জন করব।”
আকাশ অম্বানী জানান, হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার লাইসেন্স বিক্রি না করে জিও বিদেশি টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে এক ম্যানেজড সার্ভিস পার্টনার হিসেবে নিজেদের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি অফার করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের জন্য ভারী মূলধনি খরচের প্রয়োজন হবে না।