
সব পুরনো রেকর্ডকে পিছনে ফেলে দিল জিও (Jio)। IPO-র আকার হোক বা আবেদনের সংখ্যা, কোথাও বড় বিনিয়োগকারীদের বিপুল চাহিদা, তো কোথাও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দুর্দান্ত অংশগ্রহণ, জিও প্লাটফর্মের IPO তিন দিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজারের বহু পুরনো রেকর্ড পেছনে ফেলে দিয়েছে। ৩০,২১৩ কোটি টাকার দেশের সবথেকে বড় এই IPO-তে বিনিয়োগকারী সহ প্রায় ৭.৪০ লক্ষ কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। ১.৩৮ কোটিরও বেশি আবেদন এবং ২২ গুণের বেশি সাবস্ক্রিপশন নিয়ে এক অন্য ইতিহাস তৈরি করেছে জিও।
২০২০ সালে ১৩টি কৌশলগত ও প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের রেকর্ডের পর, এই IPO-র মাধ্যমে পাবলিক মার্কেট থেকে সর্বাধিক অর্থ সংগ্রহের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
২. মোট ৩০,১৮৮ কোটি টাকার সাইজ নিয়ে ভারতের সবথেকে বড় IPO জিও-র হাতে।
অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারী এবং পাবলিক বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়া মিলিয়ে মোট ৭.৪ লক্ষ কোটি টাকার চাহিদা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ চাহিদা।
ভারতীয় IPO-র ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত সাবস্ক্রিপশন, খোলার ১০০ মিনিটের মধ্যে পুরো ইস্যু সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়।
৫,৫০০ কোটি টাকার QIB অংশ প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়।
৩. ভারতের শীর্ষ ৫টি IPO-র মধ্যে এটি একমাত্র IPO, যেটিতে সমস্ত বিনিয়োগকারী শ্রেণিতে অন্তত ২ গুণ সাবস্ক্রিপশন পাওয়া গিয়েছে।
৪. বড় IPO-গুলিতে বিনিয়োগকারীর শ্রেণি অনুযায়ী রেকর্ড চাহিদা (এপ্রিল ২০২২-এর পর, সংশোধিত বরাদ্দ পদ্ধতি অনুযায়ী)
QIB (অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারী বাদে): ৩.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা।
HNI: ৫৭,০০০ কোটি টাকা।
খুচরো বিনিয়োগকারী: ২৬,০০০ কোটি টাকা।
কর্মী (Employee): ১,৪৫০ কোটি টাকা।
শেয়ারহোল্ডার: ১৯,০০০ কোটি টাকা।
৫. জিও IPO-তে মোট প্রায় ১.৪ কোটি আবেদন এসেছে।
৬. বিশ্বের শেয়ার বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও জিও প্ল্যাটফর্ম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামগ্রিক বিক্রি এবং নিফটি ৫০ বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সে প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাসের পরেও, জিও IPO মোট ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চাহিদা পেয়েছে।
জিও IPO-তে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্বারা ডলারকে টাকায় রূপান্তর করায় বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়।
৭. জিও প্ল্যাটফর্মস IPO-র ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ইকুইটি মূল্যায়ন অর্জনকারী বিশ্বের চতুর্থ এমন ব্যবসা হতে চলেছে। মেটা, আলিবাবা এবং স্পেসএক্সের মতো কোম্পানির সঙ্গে থাকছ জিও-র নাম।
৮. IPO-র অফার প্রাইসে ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকার আনুমানিক মূলধনের সঙ্গে জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের শীর্ষ তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে উঠে আসছে।
জিও IPO-কে আবেদনের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। বিশ্বে প্রথমবার কোনও IPO-তে এক কোটির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তিন দিনে এই সংখ্যা ১.৩৮ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আবেদন পাওয়া IPO-র রেকর্ড এক কোটির নিচে ছিল। পুরনো রেকর্ডের তুলনায় জিও প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি আবেদন পেয়েছে।
৩০,২১৩ কোটি টাকার সাইজ নিয়ে জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের সবচেয়ে বড় IPO হয়ে উঠেছে। এর আগে দেশে অনেক বড় পাবলিক ইস্যু এলেও সেগুলির আকার ৩০ হাজার কোটির কম ছিল। জিও IPO-র আর একটি বিশেষত্ব ছিল এই যে এটি সম্পূর্ণ ‘ফ্রেশ ইস্যু’ (Fresh Issue) ছিল। অর্থাৎ, বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা এই IPO-র মাধ্যমে তাদের শেয়ার বিক্রি করেননি।
জিও IPO শুরু থেকেই গতি ধরে রেখেছিল। ২১ অক্টোবর বিডিং শুরু হওয়ার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে IPO ১০০ শতাংশ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। প্রথম দিনের শেষে সাবস্ক্রিপশন ছিল ৩.১৬ গুণ। দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৫৭ গুণ, তৃতীয় দিনে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন দাঁড়ায় ২২.১৯ গুণ।
জিও IPO-তে বিনিয়োগকারীদের মোট বিডের পরিমাণ প্রায় ৭.৪০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারতীয় IPO বাজারে এত বড় বিনিয়োগকারীর চাহিদা আর কখনও হয়নি।
বড় বিনিয়োগকারীদের (QIB) অংশগ্রহণও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। এই ক্যাটাগরিতে প্রায় ৩.৮৭ লক্ষ কোটি টাকার বিড জমা পড়ে এবং এটি ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। ভারতের IPO বাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এত বিশাল পরিমাণের বিড খুব কমই দেখা গিয়েছে।
জিও IPO-র একটি বড় সাফল্য ছিল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ। রিটেল ক্যাটাগরিতে প্রায় ৮.৫ কোটি শেয়ার উপলব্ধ ছিল, উল্টো দিকে ২৩ কোটিরও বেশি শেয়ারের জন্য বিড করা হয়। এইভাবে রিটেল অংশটি ২.৭২ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। রিলায়েন্সের শেয়ারহোল্ডার কোটায় ৭.৬০ গুণ এবং কর্মী ক্যাটাগরিতে ২.৯৩ গুণ সাবস্ক্রিপশন পাওয়া গিয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর শেয়ার বরাদ্দ চূড়ান্ত হবে এবং ২৮ অক্টোবর শেয়ার বাজারে জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।