
নয়া দিল্লি: আজ দেশ তথা বিশ্বের বাণিজ্য মহলে এক চর্চিত নাম ‘রিলায়েন্স’। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম সারিতে থাকা এই সংস্থা একদিনে এভাবে শীর্ষে পৌঁছয়নি। এই সংস্থার পিছনে রয়েছে এক কঠোর পরিশ্রমের গল্প, যা আজও বহু মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ধীরুভাই অম্বানী, সেটাই আজকের ‘রিলায়েন্স’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
গুজরাটের একটি ছোট্ট গ্রাম চোরবাড় থেকে যাত্রা শুরু করে আজকের ‘রিলায়েন্স’ গড়ে তোলার পিছনে ধীরুভাই অম্বানীর সফর সত্যিই গভীরভাবে অনুপ্রেরণা দেয়। ১৭ বছর বয়সে ইয়েমেনের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। তারপর ভারতে ফিরে আসা, মুম্বইতে একটি ছোট ব্যবসা চালু করা। বাকিটা ইতিহাস। সেখান থেকেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাল্টিবিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কেবলমাত্র তাঁর অদম্য আকাঙ্ক্ষা, কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের জন্য।
উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে অনেকের থেকে এগিয়ে রেখেছিল। শুধু সুযোগটা খুঁজে নেওয়া নয়, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসিকতাটাও ছিল অগাধ। আর সবথেকে বড় কথা, ভারত ও ভারতবাসীর প্রতি ছিল তাঁর অগাধ আস্থা।
মানুষের উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাসের কারণেই তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে সাধারণ মানুষকে রিলায়েন্সের বৃদ্ধিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে রিলায়েন্সের পাবলিক ইস্যু (IPO) ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। ধীরুভাই অম্বানী শেয়ারের মালিকানাকে সাধারণ গৃহস্থালির অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক না হয়ে সক্রিয় অংশীদার হতে উৎসাহিত করেছিলেন দেশের মানুষকে।
লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের কাছে এটি ছিল দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের প্রথম অংশিদারত্ব। আর যাঁরা একদম শুরুর দিকে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের সেই সামান্য বিনিয়োগ সময়ের সঙ্গে এমন এক ধনসম্পদে পরিণত হয়েছিল, যা তাঁরা কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি।
ধীরুভাইয়ের জমানার আগে একটি বড় বা সফল কোম্পানি গড়ে তোলা ছিল কেবল কিছু সুবিধাভোগী ও অভিজাত শ্রেণির একচ্ছত্র অধিকার। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, গুজরাটের এক ছোট্ট গ্রামের স্কুল শিক্ষকের ছেলেও একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারে, আর সাধারণ পরিবারগুলোও সেই ব্যবসার অংশীদার হয়ে লাভের ভাগ পেতে পারে। আজকের দিনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে রিলায়েন্সের যে নিবিড় সম্পর্ক, তা ইতিহাসের ঠিক এই মুহূর্তটিতেই সূচিত হয়েছিল।