
অনেকেই টার্ম ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার সময় একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন—যদি পুরো পলিসি মেয়াদে কোনও ক্লেইম না হয়, তবে কি দেওয়া প্রিমিয়ামের টাকা একেবারেই ফিরে পাওয়া যায় না? এই ভাবনা থেকেই অনেকের টার্ম ইন্স্যুরেন্স উইথ রিটার্ন অফ প্রিমিয়াম (TROP) সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয়। এটি মূলত গ্রাহককে জীবন বিমার সুরক্ষার পাশাপাশি প্রিমিয়াম ফেরতের সুবিধাও দিয়ে থাকে।
যদি পলিসির পুরো মেয়াদে কোনও ক্লেইম না হয় এবং পলিসি হোল্ডার জীবিত থাকেন, তবে TROP প্ল্যানে দেওয়া প্রিমিয়ামের পুরোটা বা একটি বড় অংশ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে (শর্তসাপেক্ষে)। তবে TROP আসলে কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা কী এবং পলিসি নেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার।
টার্ম ইন্স্যুরেন্স উইথ রিটার্ন অফ প্রিমিয়াম কী?
টার্ম ইন্স্যুরেন্স উইথ রিটার্ন অফ প্রিমিয়াম (TROP) মূলত লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একটি বিশেষ বিকল্প। এই ধরনের প্ল্যানে পলিসির মেয়াদ শেষ হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও ক্লেইম না থাকলে, পলিসি হোল্ডার তাঁর দেওয়া প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়ার সুযোগ পান।
সাধারণ টার্ম প্ল্যানের মতোই এটি মূলত লাইফ কভার দেওয়ার জন্য তৈরি। তবে এর অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে মেয়াদ শেষে প্রিমিয়াম রিটার্নের সুবিধা থাকে। এই বাড়তি সুবিধার কারণে এর প্রিমিয়াম সাধারণ টার্ম ইন্স্যুরেন্সের তুলনায় কিছুটা বেশি হয়।
কীভাবে কাজ করে?
নির্দিষ্ট মেয়াদ: সাধারণত ২৫ বা ৩০ বছরের মতো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পলিসি নেওয়া হয়।
প্রিমিয়াম প্রদান: পলিসিহোল্ডারকে মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম দিতে হয়।
ম্যাচুরিটি বেনিফিট: যদি পুরো পলিসি টার্ম জুড়ে কোনও ক্লেইম না হয় এবং পলিসিহোল্ডার জীবিত থাকেন, তবে তিনি তাঁর দেওয়া মোট প্রিমিয়ামের একটি বড় অংশ বা পুরোটা ফেরত পান (সাধারণত ট্যাক্স ও নির্দিষ্ট চার্জ বাদে)।
টার্ম ইন্স্যুরেন্স রিটার্ন অফ প্রিমিয়ামে মূল সুবিধা কী কী?
শুরুতেই বলতে হয় প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়ার সুবিধার কথা। গ্যারান্টি রিটার্ন হল TROP-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পলিসি হোল্ডার মেয়াদের শেষে বেঁচে থাকলে তাঁর দেওয়া প্রিমিয়ামের টাকা ফেরত পান, যা বিমার সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিক নিশ্চয়তাও দেয়।
এটি যদিও একটি ইনস্যুরেন্স প্রোডাক্ট, তবে ম্যাচুরিটিতে টাকা ফেরত পাওয়ার সুবিধা থাকায় এটি অনেকের কাছে সঞ্চয়ের মতো মনে হয়। পলিসি চলাকালীন মৃত্যু ঘটলে নমিনী কভারেজ পান, আর বেঁচে থাকলে প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়া যায়।
TROP প্ল্যানে সাধারণত প্রিমিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয়তা থাকে। গ্রাহক নিজের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক কিস্তিতে টাকা জমা দিতে পারেন। এতে একবারে বড় অঙ্কের টাকার চাপ কমে।
পাশাপাশি পলিসির মেয়াদ শেষে এককালীন পুরো অর্থ নেওয়া যেতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত বা ধাপে ধাপে পেআউট নেওয়ার সুযোগও থাকে। এটি গ্রাহককে তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়।
কী কী বিষয় দেখা জরুরি?
TROP নেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা দরকার। কারণ এটি সাধারণ টার্ম প্ল্যানের তুলনায় কিছুটা আলাদা হতে পারে।
অবশ্যই প্রিমিয়াম ভালোভাবে তুলনা করুন। TROP প্ল্যানে প্রিমিয়াম সাধারণ টার্ম ইন্স্যুরেন্সের তুলনায় বেশি হয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ টার্ম প্ল্যান এবং TROP-এর প্রিমিয়ামের পার্থক্য যাচাই করে দেখুন যে আপনি আসলে কোনটি চান—কম খরচে শুধু সুরক্ষা, নাকি সুরক্ষার সঙ্গে প্রিমিয়াম রিটার্ন।
তবে পলিসি টার্ম এবং কভারেজ ঠিকভাবে নির্বাচন করুন। নিজের বয়স, আয় এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ চাহিদা (যেমন লোন, শিক্ষা বা নিয়মিত খরচ) বিবেচনা করে কভারেজ নির্ধারণ করুন। পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকলে পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।
অনেক প্ল্যানে ক্রিটিক্যাল ইলনেস বা দুর্ঘটনাজনিত কভারেজের মতো ‘রাইডার’ যোগ করার সুযোগ থাকে। তবে প্রতিটি রাইডারের জন্য বাড়তি প্রিমিয়াম লাগে, তাই আপনার সত্যিই কোনওটি প্রয়োজন কি না তা বুঝে নিন।
অবশ্যই ট্যাক্স সুবিধা দেখে নিন। TROP প্ল্যানে আয়কর আইনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত দেওয়া প্রিমিয়াম এবং প্রাপ্ত পেআউট আয়কর আইনের ধারা 80C এবং 10(10D) অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে করমুক্ত হতে পারে।
সহজভাবে বললে, টার্ম ইন্স্যুরেন্স উইথ রিটার্ন অফ প্রিমিয়াম তাঁদের জন্য একটি ভালো অপশন হতে পারে, যারা সুরক্ষার পাশাপাশি প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা চান। তবে পলিসি চূড়ান্ত করার আগে প্রিমিয়াম, কভারেজ, মেয়াদ এবং রাইডারগুলি ভালো করে মিলিয়ে দেখা উচিত। নিজের আর্থিক লক্ষ্য এবং পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।