
পছন্দের জামায় ফিট হওয়ার জন্য কিংবা সুন্দর চেহারার জন্য শুধু নয়, সুস্থ থাকার জন্য ওজন কমানো জরুরি। ওজন বেশি হলে ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, পিসিওএস, এমনকি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়াও একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, যা ওজন বেশি হওয়ার কারণে বেশি ভোগায়। ছোট্ট ভুঁড়ি মোটেও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। মেদ গলানোর জন্য যে আপনাকে বিশেষ কোনও পরিশ্রম করতে হবে, এমনও নয়। মানসিক চাপ কমিয়ে রাতে ভাল ঘুম, সুষম আহার, শরীরচর্চা আর একটি পানীয় দরকার। যে পানীয়ের খোঁজ আজকে আমরা এনেছি। এটি পেটের মেদ গলিয়ে ওজনকে বজায় রাখবে এবং মেটাবলিক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করবে।
ওয়েট লস ডায়েটে আদা ও চিয়া সিড থাকে। এবার এই দুই উপাদান দিয়ে পানীয় বানিয়ে ফেলুন। আদা ও চিয়া সিডের জল প্রদাহ এবং শারীরিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়। স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের সঙ্গে যদি আদা ও চিয়া সিডের জল খান, এটি আপনাকে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল, যেখানে আপনি সঠিক খাবার খাচ্ছেন এবং শরীরচর্চা করছেন, তার সঙ্গে আদা ও চিয়া সিডের জল খেলে তবেই উপকার পাবেন। আদা ও চিয়া সিডের জল মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে দেয় এবং থার্মোজেনেসিসের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এটি উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
আদার হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। আদা খেলে পেট ফোলা, অস্বস্তিভাব থেকে মুক্তি দেয়। একইভাবে, হজমে সহায়তা করে চিয়া সিড। হজম স্বাস্থ্য উন্নত করার মাধ্যমে আদা ও চিয়া সিডের জল ওজন কমায়। এছাড়াও আদা ও চিয়া সিডের জল খেলে চটজলদি খিদে পায় না। এতে আপনি মুখরোচক খাবার খাওয়া থেকেও দূরে থাকতে পারেন। এছাড়া আদার মধ্যে থার্মোজেনিক উপাদান রয়েছে, যা দেহের মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে দেয়। এভাবে আদা ও চিয়া সিডের জল ক্যালোরি পোড়ায়। আদা ও চিয়া সিড দুটোই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আদা ও চিয়া সিডের জল খেলে আপনারই লাভ।
যে ভাবে আদা ও চিয়া সিডের জল বানাবেন-
৩ কাপ জলে ১ চামচ গ্রেট করা আদা ও ১ চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে দিন। এবার জলটি ১৫-২০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। এই সময়ের মধ্যে চিয়া সিড জল শুষে নেবে এবং পানীয়ের পুষ্টিগুণ বাড়াবে। এরপর এতে লেবুর রস বা মধু মিশিয়ে পান করুন। পানীয়ের পুষ্টিগুণ বাড়াতে আপনি এতে এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো বা দারুচিনির গুঁড়োও মেশাতে পারেন। চেষ্টা করুন এই পানীয় সকালবেলা খালি পেটে খেতে। এতে দেহে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যাবে। তার সঙ্গে বদহজমের সমস্যা কমবে। আর মেদ গলবে দ্রুত গতিতে।