
ভারতীয় যে কোনও রান্নায় আর কিছু থাকুক বা না থাকুক আদা থাকবেই। নিরামিষ থেকে আমিষ রান্নার স্বাদ বাড়াতে আদার ভূমিকা অনেকখানি। মাছ-মাংস কষিয়ে রান্না করতে যেমন আদা লাগে তেমনই ধোঁকার ডালনা, নিরামিষ আলুর দম বা বাঁধাকপির তরকারি আদা ছাড়া স্বাদ খোলতাই হয় না। শুধুমাত্র আদা আর গোটা জিরে দিয়েই কত কিছু না বানিয়ে ফেলা যায়। আদা, জিরে, কাঁচালঙ্কার অন্য রকম একটা গন্ধ থাকে। ঠান্ডার দিনে আদা চা খেতে সকলেই পছন্দ করেন। বা ঠান্ডা, সর্দি লাগলে বলা হয় আদা চা খেতে। আদার গন্ধ আর ঝাঁঝ যে কোনও সংক্রমণ সহজেই দূর করে দিতে পারে। বাংলায় প্রবাদ বাক্য রয়েছে আদা জল খেয়ে লেগে পড়া। তবে এই আদা জলের অনেক রকম স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। কখনও খেয়ে দেখেছেন কি?
আজকাল অনেক সেলেব্রিটিও এই আদা জলে দিন শুরু করেন। বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে তাঁরা সে কথা স্বীকার করেছেন। আদার মধ্যে যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তেমনই প্রচুর প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যও থাকে। যে কারণে আদা জল শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। যে কোনও রকম সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা। আদার অ্যান্টি ইফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে দূরে রাখে।
মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে মাথা ব্যথা হয়। অনেকের মোশন সিকনেস থাকে। সেক্ষেত্রেও মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেকের আবারে সকালে ঘুম থেকে উঠলে গা বমি বমি করে, বমি হয়। এসব ক্ষেত্রেও খুব ভাল কাজ করে আদার জল। একগ্লাস মাপের জল গরম করতে বসিয়ে তাতে আদা থেঁতো করে ফেলে দিন। এবার ভাল করে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে খান। উপকার হবেই
ওজন কমাতেও সাহায্য করে এই আদার জল। আদার জলে ক্যালোরি বার্ন হয় ফলে অতিরিক্ত খিদে পায় না। পেটের চর্বি ঝরাতে আদার জল বিশেষ রকম উপকারী। আদা আমাদের বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় তাই খিদে কম পায়। ওজন কমাতে চাইলে রোজ নিয়ম করে আদার জল খান। সকালে খালি পেটে আদার জল খেলে রক্তে শর্করা থাকে নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে হার্ট ভাল রাখতেও কাজে আসে এই আদা জল
আদায় থাকে ভিটমিন সি, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম। এছাড়াও আদায় থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী যে কোনও রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে এই আদার জল। ফলে শরীর থাকে সুস্থ।