
জল খেলেও যেন ওজন বেড়ে যাচ্ছে! এমনটাই মনে করেন অনেকে। তাঁদের এই আশঙ্কা অমূলক নয়। ভারতে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ওবেসিটি আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষত, তরুণ প্রজন্মের কাছে যেন অ্যালার্মিং বেল হয়ে উঠছে ওবেসিটির হার। দ্য ল্যানসেট-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ৫ বছর থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ১২.৫ মিলিয়ন ওবেসিটি-তে আক্রান্ত রয়েছে।
দ্য ল্যানসেট-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫ বছরের শিশু থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে ১২.৫ মিলিয়ন ওবেসিটি-তে আক্রান্ত, যার মধ্যে ৭.৩ মিলিয়ন ছেলে এবং ৫.২ মিলিয়ন মেয়ে রয়েছে। ১৯৯০ সালে দেশে ওবেসেটির হার ছিল ০.৪ মিলিয়ন। ২০২২ সালের মধ্যে ব়্যাপিডলি বেড়েছে ওবেসিটি আক্রান্তের সংখ্যা।
দ্য ল্যানসেট-এর সমীক্ষায় আরও দেখা যাচ্ছে, ১৯৯০ সাল থেকে শিশু এবং টিনেজদের মধ্যে ওবেসেটির হার ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অতিরিক্ত ওজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের মধ্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের মধ্যে ওবেসিটির হার ছিল ৯.৮ শতাংশ। ১৯৯০ সাল থেকে এই হার ৮.৬ শতাংশ বেড়েছে। আর পুরুষদের মধ্যে ওবেসেটির হার দাঁড়িয়েছে ৫.৪ শতাংশ, যা আগের তুলনায় ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে ওবেসিটির হার বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে গবেষকরা জানাচ্ছেন, ঘরে-বাইরে অত্যন্ত ব্যস্ততার জন্য মহিলারা সাধারণত শরীরচর্চা করার সময় পায় না। এছাড়া মেনোপজ, প্রেগন্যান্সিও ওবেসিটির অন্যতম কারণ।
দ্য ল্যানসেট-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে ২০ বছরের উপর ৪৪ মিলিয়ন মহিলা ও ২৬ মিলিয়ন পুরুষ ওবেসিটিতে আক্রান্ত। ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, মহিলাদের ওবেসেটি আক্রান্তের হারে ১৯৭টি দেশের মধ্যে ভারত রয়েছে ১৮২ স্থানে। আর পুরুষদের ওবেসিটি আক্রান্তের হারে ভারতের স্থান ১৮০। এছাড়া টিনেজ ছেলে এবং মেয়েদের ওবেসিটির আক্রান্তের হারে ভারত রয়েছে ১৭৪ স্থানে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)-র মতে, দেহের গঠন ও উচ্চতার তুলনায় অতিরিক্ত ওজন হলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। সাধারণত Body Mass Index (BMI) ২৫-এর বেশি হলে সেটা অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০-এর বেশি হলে ওবেসিটি হিসাবে গণ্য করা হয়।
হার্ট অ্যাটাক, টাইপ-২ ডায়াবিটিস-সহ বিভিন্ন ধরনের অসুখের উৎস হল ওবেসিটি। তাই অল্প বয়স থেকেই দেহের ওজনের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্য ল্যানসেট সমীক্ষার গবেষক তথা মাদ্রাজ ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর প্রধান ডা. গুহা প্রদীপা জানাচ্ছেন, ওবেসেটি ভারতে মহামারীর আকার নিতে চলেছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্যাকেজড ফুড খাওয়া এবং শরীরচর্চার অভাবই এই সমস্যার প্রধান কারণ। তাই প্যাকেটজাত খাবার বা ফাস্টফুডে বদলে ডাল, গম, দানাশস্য জাতীয় খাবার এবং বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. প্রদীপা। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৬০ মিনিট হাঁটা-চলা, জিম, যোগার মতো শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।