
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এমনকি সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরও পুরনো চেহারায় ফিরতে অনেক সময় লেগে যায়। মূলত, প্রসবের পর সন্তানের দেখভালে নতুন মা এতটাই ব্যস্ত হয়ে যায় যে, নিজের দিকে নজর দেওয়ার সময় থাকে না। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, শরীরচর্চা না করা, সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া না করার জন্য ওজন কমানো কষ্টকর হয়ে যায়। ওজন কমাতে গেলে একটু কসরত করতেই হয়। তবে, এমন বেশ কিছু ভেষজ উপাদান রয়েছে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নতুন মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে।
জোয়ানের জল: রোজ সকালে খালি পেটে জোয়ান ভেজানো জল খান। প্রসবের পর ওজন কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বদহজমের সমস্যা দূর করে এবং মেন্সট্রুয়াল স্বাস্থ্য উন্নত করে। এক কাপ জলে এক চামচ জোয়ান ফুটিয়ে নিন। এই জল ঠান্ডা করে নুন ও লেবুর রস দিয়ে পান করুন।
লবঙ্গ ও দারুচিনি: তলপেটে জমে থাকা মেদ ঝরাতে লবঙ্গ ও দারুচিনি দারুণ উপযোগী। এক গ্লাস জলে ২-৩টে লবঙ্গ ও দারুচিনি ফুটিয়ে নিন। এই জল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ওজন ঝরাতে সাহায্য করবে।
গ্রিন টি: ওজন কমাতে ভীষণ উপযোগী গ্রিন টি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। তাই গ্রিন টি খেলে সহজেই ওজন কমে। মেদ ঝরাতে দিনে ৩-৪ কাপ গ্রিন টি খান।
মেথি: ওজন কমানোর জন্য যুগ যুগ করে মেথি ব্যবহার হয়। মেথির মধ্যে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাগানিজ রয়েছে, যা নতুন মায়ের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া মেথি মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নত করে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়, ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। মেথির মধ্যে ফাইবার রয়েছে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
হলুদ: হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন যৌগ দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করে। এই ভেষজ উপাদান দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। হলুদ দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে মেটাবলিজম লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। এর জেরে ওজন কমে।