
কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের পিছনে উচ্চ কোলেস্টেরল দায়ী। সুতরাং, কোলেস্টেরল ধরা পড়লে তাকে বাগে আনা জরুরি। আর সেটা যত দ্রুত সম্ভব করা উচিত। ১ মাসের মধ্যেই কোলেস্টেরল কমিয়ে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে শুধু ওষুধ খেলে চলবে না। আপনাকে মানতে হবে আরও কিছু নিয়ম। রোজের জীবনে ৫টি বিষয় মেনে চললেই কোলেস্টেরলকে বশে আনা সম্ভব। তাও মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে।
ডায়েট: খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সচেতন না থাকলে কোনওভাবেই আপনি কোলেস্টেরলকে কমাতে পারবেন না। খাদ্যতালিকায় ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর খাবার রাখুন। ওটস, বিভিন্ন বাদাম থেকে শুরু করে ফল, শাকসবজি চিকেন, ডাল বেশি করে খান। যে সব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে, সেগুলো একদম খাওয়া চলবে না। সেটা রান্নার তেল থেকে শুরু করে কেক, মাটন ইত্যাদি হতে পারে। ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্যাকেটজাত খাবার খাবেন না।
শরীরচর্চা জরুরি: সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে আপনাকে শরীরচর্চা করতেই হবে। যোগব্যায়াম করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এলডিএল কোলেস্টেরল কমার পাশাপাশি এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ে। কোলেস্টেরল কমাতে আপনি যে কোনও ধরনের কায়িক পরিশ্রম করতে পারেন।
ধূমপান ত্যাগ করুন: কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার পিছনে সিগারেট খাওয়ার বদভ্যাস দায়ী। ধূমপান ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। ধূমপান ছাড়ার ৩ মাসের মধ্যে আপনার দেহে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হওয়া শুরু হবে এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত হবে। আর ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যেই আপনি হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।
ওজন কমানো: মেদ না ঝরালে কোলেস্টেরলকে বাগে আনা সম্ভব নয়। আজকাল ওবেসিটির সমস্যা ঘরে ঘরে। আর এই ওবেসিটিই হাজার এক ধরনের ক্রনিক অসুখ ডেকে আনে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, অলস জীবনযাপন ছাড়তে হবে। তবেই কোলেস্টেরল সহ একাধিক রোগের ঝুঁকি কমাতে হবে।
মদ্যপানে রাশ টানুন: অত্যধিক পরিমাণে অ্যালকোহল সেবনের কারণে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে গেলে অ্যালকোহল খাওয়া কমান। একেবারে মদ্যপান ছেড়ে দিলে সবচেয়ে ভাল ফল পাবেন।