Election Commission Row: ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি! নির্বাচন কমিশনে মতপার্থক্য এই প্রথমবার নয়, অস্বাভাবিকও নয়, বলছে তথ্য

এর আগে এর থেকেও তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন বহুদলীয় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান। কমিশনার এম. এস. গিল এবং জি. ভি. জি. কৃষ্ণমূর্তির সঙ্গে তাঁর আইনি লড়াইও শুরু হয়।

Election Commission Row: ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি! নির্বাচন কমিশনে মতপার্থক্য এই প্রথমবার নয়, অস্বাভাবিকও নয়, বলছে তথ্য
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

Sep 23, 2026 | 7:24 PM

নয়া দিল্লি: এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি উঠেছিল! এমনই তথ্য ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এসআইআরের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী একই দিনে নাকি চার বার প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর ভোট চুরির অভিযোগে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, ভোট চুরি হলে তো তারা আরও বেশি আসনে জিততে পারত। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পর একাংশ সামনে আনছে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বেশ কিছু সংক্রান্ত তথ্য।

তিন সদস্যের মত পার্থক্য অস্বাভাবিক নয়

১৯৯৩ সাল থেকেই কমিশন একাধিক সদস্যকে নিয়ে কাজ করে আসছে। আইন অনুযায়ীই মতপার্থক্য দূর করা হয়।

কোটি কোটি ভোটারকে নিয়ে চলা এই বিশাল কর্মকাণ্ডে ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্বাভাবিক নয়।

এর আগে এর থেকেও তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন বহুদলীয় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান। কমিশনার এম. এস. গিল এবং জি. ভি. জি. কৃষ্ণমূর্তির সঙ্গে তাঁর আইনি লড়াইও শুরু হয়।

এম. এস. গিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ করার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হন।

কী বলছে নির্বাচন কমিশন

২০২৩ সালের আইন অনুযায়ীই সব সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেবল তিন কমিশনারই নন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যেক আধিকারিক নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

গত এক বছরে কমিশন প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার প্রতিটি ফুল বেঞ্চের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই কার্যকর হয়েছে।

এই একই সময়ের মধ্যে কমিশন সফলভাবে বিহার, কেরল, তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিচালনা করেছে কমিশন।

ফর্ম ৬-র বৈধতা নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফর্ম ৬ অবৈধভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। জুলাই মাসে এটি চালুর আগেই, ফর্ম ৬-এর পাশাপাশি জমা দেওয়ার জন্য একটি পৃথক ঘোষণা পত্র (Declaration Form) তৈরি করা হয়েছিল। তাতে ভোটার বা তাঁর আত্মীয়ের আগের SIR-এর ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো থাকে।

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৩৮ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ আবেদন করেছিলেন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা, যাঁরা নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছিলেন।

এই আবেদনগুলো কারা দাখিল করেছে, প্রতিবেদনে তা নিয়ে একটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এটি প্রমাণ করে না যে নির্বাচন কমিশন নিজে এগুলো দাখিল করেছে। কমিশন নিজেই এগুলো করেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়াটা এমন একটি অনুমান, যার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণের সমর্থন নেই।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে ১০টি বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) সম্পন্ন হয়েছে। এই দশটির মধ্যে আটটিই পরিচালিত হয়েছিল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us