
নয়া দিল্লি: দেশজুড়ে চলছে জনসুমারি (Census 2026)। পশ্চিমবঙ্গেও শীঘ্রই শুরু হবে জনগণনা। এই প্রথম ডিজিটাল সেনসাস (Digital Census) বা জনগণনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে জনগণনার প্রশ্নও। বাড়িতে বসবাসকারীদের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা মোট ৩৩টি প্রশ্ন করবেন। এর মধ্যে বাড়িতে কতজন থাকেন, বাড়ির মেঝে-ছাদ কী দিয়ে তৈরি, সেই প্রশ্ন যেমন আছে, তেমনই বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ বা ল্যাপটপ আছে কি না, তাও জানা হবে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, কার বাড়িতে কী কী জিনিস আছে, তা জেনে সরকার কী করবে? জনগণনা বা জনসুমারির সঙ্গে এর সম্পর্কই বা কী?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আগে বুঝতে হবে, জনগণনার উদ্দেশ্য কী? যেকোনও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য জনসংখ্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য থাকা প্রয়োজন। জনসংখ্যার ধারণা থাকলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা যায়। এই জন্য প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা করা হয়। তবে ভারতে এর আগে ২০১১ সালে জনগণনা হয়েছিল। ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল, তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেই সময় জনগণনা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার ২০২৬-২০২৭ সালে জনগণনা শুরু হয়েছে।
এই জনগণনা দুটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।এই ধাপে বাড়ির তালিকা তৈরি করা এবং গৃহগণনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে জনগণনা।
জনগণনার প্রশ্ন করার সময় পরিবারগুলি যে ৩৩টি প্রশ্ন করা হচ্ছে, তাতে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে তাদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার আছে কি না। বাড়িতে ইন্টারনেট কানেকশন, মোবাইল, গাড়ি, বাইক আছে কি না। এই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার কারণ কী?
এর কারণ হল জনসংখ্যা গণনা এখন আর শুধু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একটি পরিবারের গাড়ি, ল্যাপটপ, টিভি এবং ইন্টারনেট আছে কি না, তার উপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত জীবনযাত্রার মান নির্ণয় করা যাচ্ছে। আগের জনশুমারিগুলিতে শুধুমাত্র আয়ের উপর ভিত্তি করে এই চিত্রটি স্পষ্ট করে পাওয়া যেত না। অনেকেই আয়ের তথ্য গোপন করেন। তাই এই জিনিসগুলির বিচার করে জীবনযাত্রার মান মূল্যায়ন করা হবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করেন যারা, তাদের সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। তাদের কাছে সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি পৌঁছে দিতে সাহায্য হবে।
মোবাইল, ইন্টারনেট ও ল্যাপটপের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল পরিধিও হিসাব করা হবে। যেসব জেলা বা গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল পণ্যের ব্যবহার কম, সেখানে সুবিধা দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয়, অনলাইন শিক্ষা, কাজ এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রচার ও প্রসারের জন্য একটি নীতি প্রণয়ন করা যেতে পারে। কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্যও একটি নীতি প্রণয়ন করা যেতে পারে।