
নয়াদিল্লি: তিলোত্তমাকাণ্ডের পর ধর্ষণের বিরোধিতায় বিরোধী শিবিরের মতোই পথে নেমেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। মিছিল থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্যে ধর্ষণ রুখতে নতুন আইন আনবেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই বিধানসভায় পেশ হয়েছিল ‘অপরাজিতা উইমেন এন্ড চাইল্ড বিল’। সংখ্য়াগরিষ্ঠতার সঙ্গে তা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা থেকে পাসও হয়েছিল সেটি।
তবে বিধানসভায় সম্মতি মিললেও, এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি অপরাজিতা বিল। যেই কারণে এখনও যে আইন হওয়ার পথেই ঝুলে আছে এই ধর্ষণবিরোধী বিল। এই দিকে হাতেও সময় যেন ফুরিয়ে আসছে ঘাসফুল শিবিরের। চলতি বছরের গোড়ার দিকেই এই বিলকে কার্যকর করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু, রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এখনও ছাড়া পায়নি ‘অপরাজিতা’।
তাই এবার বিল পাস করাতে রাষ্ট্রপতির দরবারে গিয়ে হাজির তৃণমূল সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার দলের লোকসভা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যায় সেই প্রতিনিধি দলটি। বিধানসভায় বিল পাস হওয়ার পরও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেতে কেন এত দেরি হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জানতে চায় তাঁরা। এছাড়াও, এই বিল যাতে দ্রুত অনুমোদন পায়, সেই নিয়ে আবেদন জানান সুদীপরা।
সাংসদদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে অপরাজিতা বিল। যেখানে সাত নম্বর শিডিউলের যুগ্ম তালিকা অনুযায়ী, একটি রাজ্যের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে অনুমোদন পেতে কেন এত সময় লাগছে? ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দেখা করেছেন বলেই জানা গিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎয়ের পর তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘রাষ্ট্রপতিকে অনেকটা উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। তবে তিনি মন দিয়েই সবটা শুনেছেন। এবং পর্যালোচনা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।’ অবশ্য তৃণমূল সাংসদদের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করছে পদ্ম শিবির। এদিন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ‘এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। আইন তো ছিলই। কিন্তু যেখানে সরকারই প্রমাণলোপাট করছে সেখানে আরও কঠোর আইন এনে লাভটাই বা কী?’