
রোহতক: কংগ্রেস কর্মী হিমানী নরওয়ালকে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় হরিয়ানায় বাড়ছে উত্তেজনা। পরতে পরতে রহস্যের জট। ইতিমধ্য়ে এক যুবককে গ্রেফতার করা হলেও, হিমানী-খুনে যে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলেই দাবি তুলছেন মৃত যুবতীর মা।
কীভাবে খুন হলেন হিমানী?
হরিয়ানা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক সম্ভবত তাঁর প্রেমিক। রোহতকে একাই থাকতেন হিমানী। আর সেখানে মাঝে মধ্যে যাতায়াত থাকত অভিযুক্ত সচিনের। সোমবার সচিনকে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করে হরিয়ানার বিশেষ তদন্তকারীর দল।
জানা গিয়েছে, পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। হরিয়ানার ঝাজ্জর জেলায় একটি মোবাইলের দোকানও রয়েছে তার। তবে হিমানীর সঙ্গে ‘প্রণয়ের’ সম্পর্ক থাকলেও অভিযুক্ত কিন্তু বিবাহিত। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তার নাকি দু’টি সন্তানও রয়েছে।
কীভাবে আলাপ হিমানীর সঙ্গে?
রোহতকের এক পুলিশকর্তা জানাচ্ছেন, ফেসবুকের মাধ্য়মে প্রথম আলাপ হয় হিমানী ও সচিনের। সেখান থেকেই বাড়ে বন্ধুত্ব। রোহতকে যেহেতু একাই থাকতেন হিমানী। সেই সূত্র ধরে মৃতার বাড়িতেও বেশ যাতায়াত করতে তিনি। এমনকি গত ২৭ ফেব্রুয়ারিও হিমানীর বাড়িতে এসেছিলেন অভিযুক্ত সচিন।
প্রণয় থেকে সংঘাত
জেরায় সচিন জানিয়েছেন, হামেশাই হিমানীর বচসা বাঁধত তার। এমনকি, তাকে ব্ল্য়াকমেল করে নাকি লক্ষ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে ছিলেন হিমানী। সেই নিয়েই মাঝে মধ্য়ে ঝগড়া বাঁধত তাদের মধ্যে। খুনের আগেও বচসা হয় তাদের মধ্যে। সেই থাকে বাঁধে হাতাহাতি, রাগের মাথায় হিমানীর গলায় মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়ে তাকে খুন করেন অভিযুক্ত।
তারপর হিমানীর ঘরে রাখা একটি ট্রলিব্যাগে তার মৃতদেহটা দলা পাকিয়ে ঢুকিয়ে দেয় সে। মৃত্যুর সময় নিজের প্রাণ বাঁচাতে ধৃতের হাতে কামড় ও আঁচড় দেন হিমানী। সচিনকে ধরতে ওই এলাকারই একটি সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্য নেয় হরিয়ানা পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, কালো একটি ট্রলিব্যাগ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন সচিন। পরদিন সেই ব্যাগটি উদ্ধার হয় নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থেকে।