
নয়া দিল্লি: বিরোধিতা করেছিলেন কৃষক আন্দোলনের। এবার কৃষি আইন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। মঙ্গলবারই তিনি বলেন যে ২০২০ সালে মোদী সরকারের প্রত্যাহার করে নেওয়া তিন কৃষি আইন আবার ফেরত আনা উচিত। এবং কৃষকদেরই উচিত সেই আইন ফেরত আনার দাবি করা। কঙ্গনার এই মন্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। দূরত্ব তৈরি করে নেয় বিজেপিও। চাপের মুখে পড়েই এবার মন্তব্য প্রত্যাহার বলি অভিনেত্রীর। আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন।
হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত বলেন, “আমি জানি এটা নিয়ে বিতর্ক হবে…কিন্তু আমার মনে হয় প্রত্যাহার করে নেওয়া কৃষি আইন ফেরত আনা উচিত। কৃষকদের নিজেদের এই দাবি জানানো উচিত। দেশের উন্নয়নের স্তম্ভ ওরা, আমি ওদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, নিজেদের ভাল-র জন্যই আইন ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।”
কঙ্গনার এই মন্তব্যের পরই সমালোচনায় সরব হয় কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিজেপিও কঙ্গনার এই মন্তব্যে সমর্থন জানায়নি। দলের মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “বিজেপির তরফে কঙ্গনা রানাউতের এই ধরনের মন্তব্য করার অধিকার নেই। তিনি যা বলেছেন, তা ব্যক্তিগত মন্তব্য। এটি কৃষি বিল নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে না।”
এ দিন কড়া সমালোচনার মুখে পড়েই ক্ষমা চান কঙ্গনা। আজ গৌরব ভাটিয়ার মন্তব্যের সূত্র ধরেই ভিডিয়ো পোস্ট করে কঙ্গনা রানাউত বলেন, “কৃষি আইন নিয়ে মন্তব্য আমার ব্যক্তিগত। দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে না। আমার মনে রাখা উচিত ছিল যে আমি এখন শুধু শিল্পী নই, একজন বিজেপি কর্মীও। আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য করা উচিত নয়। আমি ক্ষমা চাইছি। আমার মন্তব্য যদি কাউকে আঘাত করে থাকে, তবে আমি মন্তব্য ফিরিয়ে নিচ্ছি।”
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিকবার কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কঙ্গনা রানাউত। ২০২০ সালে কৃষক আন্দোলন নিয়ে যেমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি বাংলাদেশের সরকার পতনের পরও কঙ্গনা বলেছিলেন যে কৃষক আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্র যদি কঠোর পদক্ষেপ না করত, তবে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত এ দেশেও।
চলতি বছরের জুন মাসে কৃষক আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করার জেরেই চণ্ডীগঢ় বিমানবন্দরে এক সিআইএসএফ কর্মী কঙ্গনা রানাউতকে চড় মেরেছিলেন।