
নয়া দিল্লি: জেলের বাইরে সূর্যের আলোটা প্রায় দেখতে পাচ্ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। জামিন মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর, বুধবারই (২৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টে ওঠার কথা মামলাটি। ইদানিং, শীর্ষ আদালতে সময়টা ভাল যাচ্ছে না দিল্লি হাইকোর্টের। তাই, নিম্ন আদালতের জামিনের রায়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ খারিজ হয়ে যেতে পারে বলে আশা করছিলেন আপ কর্মী সমর্থকরা। কিন্তু তার আগে, মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে সেই আশায় জল ঢালল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই। দিল্লির আবগারি নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে, এদিন তিহাড় জেলে গিয়েই কেজরীবালকে গ্রেফতার করল এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগে একই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট।
গত মার্চ মাস থেকে তিহার জেলেই আছেন আপ প্রধান। মাঝে ভোটের প্রচারের জন্য কয়েকদিন ছুটি পেয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিহার জেলে গিয়ে তাঁকে জেরা করার অনুমতি চেয়েছিল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। সোমবার তাঁকে হেফাজতে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। জেলেই কেজরীবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। আবগারি নীতি মামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেছিল। এদিন কেজরীবালের জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে এক বিশেষ আদালতে আবেদন করে সিবিআই। তারা আদালতকে বলে, কেজরীবালের বিরুদ্ধে নতুন সূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এরপরই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই জানিয়েছে, ২৬ জুন, বুধবারই অরবিন্দ কেজরীবালকে আদালতে পেশ করা হবে।
এদিকে, কেজরীবালকে সিবিআই গ্রেফতার করার ঠিক আগে, এই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কেজরীবালকে গ্রেফতার করতে তার বিরুদ্ধে জাল মামলা নথিভুক্ত করতে পারে সিবিআই। এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, “এমন এক সময়ে যখন অরবিন্দ কেজরীয়ালের সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে, সূত্র মারফৎ আমি জানতে পেরেছি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র একটি জাল সিবিআই মামলা নথিভুক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। সিবিআইকে দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করার ষড়যন্ত্র করছে। গোটা দেশ এটা দেখছে। তারা অরবিন্দ কেজরীবালের সঙ্গে আছে।”