Sheikh Hasina’s Return to Bangladesh: ‘আত্মসমর্পণ করব’, বড় ঘোষণা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

Sheikh Hasina Surrender: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই হাসিনাকে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তবে সেই সাজাকেও আর ভয় পাচ্ছেন না তিনি। জানালেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন।   

Sheikh Hasinas Return to Bangladesh: আত্মসমর্পণ করব, বড় ঘোষণা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।Image Credit source: Getty Image

|

Jul 10, 2026 | 2:52 PM

নয়া দিল্লি: আর পলাতক হিসাবে নয়, এবার দেশেই ফিরে যেতে চান বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই হাসিনাকে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তবে সেই সাজাকেও আর ভয় পাচ্ছেন না তিনি। জানালেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন।

কবে ফিরবেন শেখ হাসিনা?

সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে তাঁর দল, আওয়ামী লিগের বড় নেতাদের নিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বাংলাদেশে ফিরে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন। কোনও চাপ নয়, স্বেচ্ছাতেই তিনি বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শেখ হাসিনা।

ফাঁসি হবে হাসিনার?

এ দিন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে মুজিব-কন্যা বলেন, “আমি ফিরলেই ওরা হয়তো আমায় গ্রেফতার করবে। হয়তো মেরেও ফেলতে পারে। তাও আমায় যেতেই হবে। আমার দলের নেতা ও কর্মীরা প্রবল অত্যাচারের সম্মুখীন হচ্ছে। যদি মৃত্য়ু আসে, তবে আমি চাই সেটা আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার মা-বাবা শায়িত আছে, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছিল।”

তবে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এখনও বাংলাদেশ সরকারকে তাঁর দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাননি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক অধিকার ও ন্যায়বিচার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়।”

গ্রেফতারির ভয় নেই হাসিনার-

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানান যে তিনি গ্রেফতারি নিয়ে ভয় পান না। একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন আগেও। তাহলে কেন দেশ ছেড়েছিলেন তিনি? এর জবাবে হাসিনা বলেন যে তাঁর জীবন বিপদের মুখে ছিল। আন্দোলনকারীরা তাঁর বাসভবনের দিকেই আসছিল। সেই কারণে তিনি এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন।

হাসিনা বলেন, “যখন কোনও সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতে পারে- কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে ভালো-মন্দের বিচার করা, সরকারের সঠিক-ভুল বিচার করার দায়িত্ব জনগণের। এই সিদ্ধান্তও আমি জনগণের উপরই ছাড়লাম।”

আওয়ামী লিগ কি ফিরবে?

হাসিনা দেশ ছাড়ার পরই পূর্ববর্তী ইউনূস সরকার আওয়ামী লিগ ও তার সমস্ত শাখা সংগঠনকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। তাদের গত ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচনেও লড়তে দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিনা। বলেন, “ওরা হয়তো আমায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। আমি হয়তো নির্বাচনে লড়তে পারব না, কিন্তু আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কি ঠিক? আমরা যদি এত খারাপ করে থাকি, তাহলে মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হোক।”

হাসিনার পতন-

একাধিক ধাপে ২০ বছর ধরে বাংলাদেশের গদিতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। শেষ দফায়, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র যুব গণআন্দোলন ও প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের পতন হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা সবথেকে বড় রাজনৈতিক সঙ্কট ছিল। বাংলাদেশে তৈরি হয় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার।

গণহত্যার দায়ে অপরাধী হাসিনা-

এদিকে, বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় বাংলাদেশে। ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সাজা দেয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।  তবে ভারতে থেকেই এই ট্রাইব্যুনালের রায় মানতে অস্বীকার করেছিলেন শেখ হাসিনা।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বদলাবে?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ইউনূস আমলে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি হয় ক্রমশ। বাংলাদেশের তরফে একাধিকবার হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিও জানানো হয়েছিল। এবার শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্কে আবার উন্নতি হতে পারে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরই দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।

Follow Us