
নয়া দিল্লি: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভেঙে দেশের একটানা দীর্ঘতম মেয়াদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড গড়ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত একটানা প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন তিনি। তাঁর এই কৃতিত্বকেই সাধুবাদ জানালেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। দেশের আত্মবিশ্বাস, সাংস্কৃতিক গর্ব ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান তুলে ধরার কৃতিত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকেই।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে লেখা নিজের মতামত প্রতিবেদনে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু লেখেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সাফল্য দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতির প্রতি ভরসা, আস্থাকেই তুলে ধরেছে।
বিজেপি শাসিত এনডিএ-র অন্যতম জোটসঙ্গী তেলুগু দেশম পার্টি। দলের শীর্ষ নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করে বলেন যে তিনি হলেন সঠিক সময়ের সঠিক নেতা। বিগত ১২ বছরে তাঁর উপরে ক্রমাগত আস্থা বেড়েছে। তিনি লেখেন, “ইতিহাস এই সময়টা মনে রাখবে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি বা রাজনৈতিক স্থিতাবস্থার জন্যই নয়, বরং তার থেকেও আরও গভীর বিষয়ের জন্য-ভারতের নিজের উপরে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য।”
প্রায় পাঁচ দশকে একাধিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর চন্দ্রবাবু নাইডুর উপলব্ধি, প্রধানমন্ত্রী মোদী সবার থেকে আলাদা কারণ তিনি আধুনিক সুশাসনের সঙ্গে সামাজিক আত্মবিশ্বাসকে মিলিয়ে দিয়েছেন। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, অত্যন্ত সমৃদ্ধ সভ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভারত দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বে তার পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে লড়াই করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশ নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-গর্বকে যেমন তুলে ধরেছে, তেমনই বিশ্বমঞ্চে নিজের উপরে বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে।
যোগ, প্রাণায়াম, ধ্যানের মতো প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বর্তমানের প্রযুক্তি নির্ভর সুশাসন ও উদ্ভাবনী নির্ভর বৃদ্ধির মিশ্রণ তৈরি হয়েছে মোদীর আমলে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভারতের সফট পাওয়ার বৃদ্ধিরই উদাহরণ।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমলেই ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের ১১তম অর্থনীতি থেকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্টাকচার, জনধন অ্যাকাউন্ট, আধার ইন্টিগ্রেশন, ইউপিআই ও ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার ভারতের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের উদাহরণ। ৫১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতি, সাফাই, হাউসিং, পানীয় জল থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা- এই সমস্ত কাজের জন্য বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেন চন্দ্রবাবু নাইডু। তা সে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে শুরু করে ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষই হোক না কেন, ভারত দ্রুততম অর্থনীতির গতি থামানো যায়নি।
হাইওয়ে, বন্দর, রেলওয়ে, পুনর্নবীকরণ শক্তি, উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমলে, সে কথাও তুলে ধরেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতের যুবকরা নিজের উদ্যোগে ব্যবসা তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার কৃতিত্বও দেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে।