
রায়গড়: তিনি ডাক্তার নন। তবে, হাসপাতালের লাশকাটা ঘরে দেহের ময়নাতদন্তে সহায়তা করেন সন্তোষী দুর্গা। ৩৫ বছরের জীবনে ৭০০-র বেশি দেহ কাটাছেঁড়া করেছেন তিনি। ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার মন্দিরে প্রাণ প্রতিস্থা অনুষ্ঠানে তাঁকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাম মন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি জানিয়েছেন, গত প্রায় ১৮ বছর ধরে ছত্তীসগঢ়ের নরহরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, জীবন দীপ কমিটির সাফাই কর্মী হিসাবে কাজ করছেন তিনি। এই সময়কালে ৭০০-র বেশি দেহের ময়নাতদন্তে সহায়তা করেছেন তিনি। সমাজে তাঁর অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। কিন্তু, অযোধ্যা থেকে আমন্ত্রণ পাবেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
স্তম্ভিত দুর্গা সন্তোষী বলেছেন, “সারা জীবনে আমি কখনও ভাবিনি, আমায় অযোধ্যা থেকে ডাকা হবে। কিন্তু প্রভু রাম আমাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে ডেকেছেন।” তিনি জানিয়েছেন, প্রথম যখন রাম মন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের চিঠি পেয়েছিলেন, তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আনন্দে তাঁর চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় উপস্থিত থাকতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই লাশকাটা ঘরের সাফাই কর্মী। আর ডাক পেয়েযাবেন না, তা কি হয়? দুর্গা সন্তোষী জানিয়েছেন, ১৮ জানুয়ারি নরহরপুর থেকে তিনি অযোধ্যার উদ্দেশে রওনা দেবেন। প্রাণ প্রতিস্থা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নরহরপুরের সকল মানুষের সুখ, শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করবেন।
রাম মন্দিরের ডাক পেলেন বিহুয়া বাই-ও
দুর্গা সন্তোষী রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাওয়ায় গর্বিত নরহরপুরের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার প্রশান্ত কুমার সিং-ও। তিনি এই সাফাই কর্মীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “তাঁর অযোধ্যা থেকে আমন্ত্রণপত্র পাওয়া আমাদের সকলের জন্য গর্বের।” মজার বিষয় হল, রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে ডাক পেয়ে চমকে গিয়েছেন ছত্তীসগঢ়ের আরও এক মহিলা। রাস্তায় রাস্তায় কাগজ কুড়িয়েই কোনোক্রমে দিুনগুজরান করেন বিহুয়া বাই। রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ২০ টাকা দান করেছিলেন এই বৃদ্ধা। তাঁকেও রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্টা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আসলে, রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেলিব্রিটি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা যেমন আসছেন, তেমনই দুর্গা সন্তোষী, বিহুয়া বাইদের মতো সমাজের বিভিন্ন স্তরের স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাম মন্দির আন্দোলনের সময় যে সকল করসেবকের প্রাণ গিয়েছিল, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণ প্রতিষ্টা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আরএসএস জানিয়েছে, যে সকল আইনজীবী অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার আইনি লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন, ২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদেরও।