
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতা বা কাজের দক্ষতাই নয়, একজন বিচারপতি অন্যদের সঙ্গে কতটা মিলেমিশে কাজ করতে পারবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার এমনই মন্তব্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর কথায়, শীর্ষ আদালতে মামলার সংখ্যা এবং কাজের চাপ যে হারে বাড়ছে, তাতে প্রত্যেক বিচারপতির মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল।সেখানে সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংকে সংবর্ধনা জানাতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় মামলা জমা পড়ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, আদালত কার্যত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচের মতো দ্রুত গতিতে কাজ করছে।” তাই নতুন বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ করার সময় তিনি একটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করেন। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে কতটা সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারবেন।
বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্য আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পায়। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারপতিদের অভিজ্ঞতা ও কাজের দক্ষতা, দেশের বিভিন্ন আদালতে তাঁর প্রতিনিধিত্ব। সব দিক বিবেচনা করেই কলেজিয়াম বিচারপতিদের সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও বলেন যে, আদালতে মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া একদিকে যেমন বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ার প্রমাণ, অন্যদিকে এর ফলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের কাজের গতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে সুসম্পর্কের উপরেও জোর দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, দেশের আইনব্যবস্থার উন্নতিতে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু আদালতে সওয়াল করাই তাঁদের কাজ নয়, নতুন চিন্তাভাবনা, গবেষণা এবং আইনি যুক্তির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকেও সমৃদ্ধ করেন তাঁরা। বিচারপতিদেরও আইনজীবীদের যুক্তি এবং গঠনমূলক সমালোচনা মন দিয়ে শোনা উচিত বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি।
গতকালের অনুষ্ঠানে বিচারপতি সুনীতা আগরওয়ালের প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন প্রধান বিচারপতি। বিশেষ করে গুজরাত হাইকোর্টে বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়েরও প্রশংসা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তেলঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ঝুলে থাকা একটি পুরনো মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।