
নয়াদিল্লি: এতদিন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সুর চড়াচ্ছিল কংগ্রেস। সোমবারও দিল্লির রাজপথে দেখা গিয়েছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীদের। এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বলল কেরলের প্রদেশ কংগ্রেস। তারপরই প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের আসল লক্ষ্য কী? অরাজকতা সৃষ্টি করাই কংগ্রেসের আসল উদ্দেশ্য কি না, সেই প্রশ্ন উঠে গেল।
কী বলল কেরলের প্রদেশ কংগ্রেস?
এদিন কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়। এক্স হ্যান্ডলে তারা লিখেছে, “প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, আইনশৃঙ্খলা যদি আপনার এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে, তা হলে এখনই পদত্যাগ করুন। আমরা এমন কাউকে আপনার জায়গায় নিয়ে আসব, যিনি এই পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন।”
আর কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের এই পোস্টের পরই কংগ্রেসের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে রাস্তায় নামছেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। রাহুল লাগাতার নিশানা করে চলেছেন জ্ঞানেশ কুমারকে। ইন্ডি জোটের শরিকদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছেন।
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি নিয়ে কংগ্রেসকে পাল্টা তোপ দাগছে বিজেপি। কংগ্রেসের আসল উদ্দেশ্য যে অরাজকতা সৃষ্টি করা, এই অভিযোগ করছেন বিজেপি নেতারা। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বলল কেরলের প্রদেশ কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত বলেন, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়। সরাসরি এই বিষয়টি তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে পদক্ষেপের দাবিতে যেসব বিরোধী নেতা সরব হয়েছেন, তাঁদেরও সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সূর্য কান্ত বলেন, “ইয়ে ল অ্যান্ড অর্ডার কা মুদ্দা হ্যায়। ইয়ে মেরা বিষয় নহি হ্যায় (এটি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়। এটি আমার এক্তিয়ারভুক্ত নয়)।”
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন। তারপরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের জন্য বলল কংগ্রেস। প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের দাবিতে কেউ সাড়া না দিলেই কি তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠবে?