
নয়া দিল্লি: বিভিন্ন কারণে লেট হতে পারে ট্রেন। ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। তবে একটা ট্রেন লেট যে এতটা ব্যয়বহুল হতে পারে, তা হয়তো ভাবেনি ভারতীয় রেলওয়ে। দেরি করে চলছিল রাজধানী এক্সপ্রেস। তার জন্য এবার ভারতীয় রেলকে দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। এক যাত্রীকে দিতে হবে ৬৯ হাজার টাকা!
এক দম্পতি রাজধানী এক্সপ্রেস করে যাচ্ছিলেন। তাদের কেরল যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেন থেকে নেমে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল, কিন্তু ট্রেন লেট করায় ওই দম্পতির ফ্লাইট মিস হয়ে গিয়েছিল। তারা স্টেট কনজিউমার ডিসপুট রিড্রেসাল কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশনের তরফে রেলওয়েকে ওই দম্পতিকে ৬৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হল তাদের আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হেনস্থার জন্য।
ঘটনাটি নয় বছর আগের। রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা অনিল কুমার রানা ও তাঁর স্ত্রী অনিতা রানা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কেরলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন। যেহেতু সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, তাই ওই দম্পতি নভেম্বর মাসে এয়ার ইন্ডিয়ার ইকেনমি ক্লাসের টিকিট কাটেন দিল্লি থেকে তিরুবনন্তপুরমের, ফ্লাইটের খরচ পড়েছিল ৩৩ হাজার ৯২৯ টাকা।
১৭ ডিসেম্বর সন্ধে ৬ টা ৫ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল। কোটা থেকে দিল্লি আসার জন্য তারা ওই দিন সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেস ধরেন। ট্রেন দিল্লিতে পৌছনোর কথা ছিল ওই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু ট্রেন চার ঘণ্টা লেট করে পৌঁছয় ওই দিন বিকেল ৪টে ৫০ মিনিটে। ফলে তারা বিমানবন্দরে পৌঁছেও ফ্লাইট ধরতে পারেননি। তারা ওই রাত বিমানবন্দরেই কাটান। পরেরদিন সকালে আবার ৭২ হাজার ৯৩০ টাকা দিয়ে নতুন ফ্লাইটের টিকিট কাটেন।
এরপর তারা রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা অতিরিক্ত বিমান খরচ, হোটেলের খরচ এবং মানসিক হেনস্থার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ওই ব্যক্তি প্রথমে রেলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে কোনও সুরাহা না হওয়ায় তিনি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আইনি নোটিস পাঠান। কনজিউমার ফোরামে মামলা করেন।
রেলওয়ে ওই অভিযোগে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, অপারেশনাল, টেকনিক্যাল ও সুরক্ষা জনিত কারণে ট্রেন লেট করতেই পারে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন পৌঁছে দেওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে না। তবে জেলা কনজিউমার কমিশন রেলের এই যুক্তি খারিজ করে দেয় এবং রেলকে ৩৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলে অতিরিক্ত বিমান ভাড়ার খরচ বাবদ। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা মানসিক অশান্তি ও হেনস্থার জন্য এবং ৫ হাজার টাকা হোটেল ভাড়া বাবদ দিতে বলা হয়। আরও ৫ হাজার টাকা খরচ দিতে বলা হয়েছে আইনি মামলার খরচ বাবদ। সব মিলিয়ে ৬৯ হাজার ১ টাকা দিতে বলা হয়েছে রেলওয়েকে।