
এলাহবাদ: প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য নয়। যেখানে খুশি, যার সঙ্গে খুশি থাকতে পারেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এ কথা বুঝিয়ে দিল আদালত। ভারতের মতো দেশ, যেখানে এখনও নারী স্বাধীনতা প্রতিদিনের চর্চার বিষয়, নারীরা ঠিক কতটা স্বাধীন, কতটা নিজের মতো করে চলতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে বহু প্রশ্ন, সেখানেই আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২৫ বছরের মেয়েকে নিজেদের কাছে রাখার আর্জি জানিয়ে বাবা-মা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ আবেদন করেছিলেন এলাহবাদ হাইকোর্টে। নিজের ২৫ বছর বয়সী মেয়েকে আদালতে হাজির করার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোথায় এবং কার সঙ্গে থাকবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে।
আবেদনটি করেছিলেন কালাবতী দেবী নামে এক মহিলা। তাঁর মেয়ে পূজাকে হাইকোর্টে হাজির করার নির্দেশ চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। ১৭ আগস্ট আদালত রাজ্য সরকারকে পূজাকে হাজির করার নির্দেশ দেয় এবং সেই নির্দেশ মেনে পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পূজা জানান যে, তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় দিল্লিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন। তাঁকে কেউ বেআইনিভাবে হেফাজতে রাখেনি।
পূজা আরও জানান যে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁর প্রতি তাঁর মায়ের আচরণ কখনই ভালো ছিল না বলে অভিযোগ করেন পূজা। তাঁর দাবি, বাড়িতে তাঁকে বহুবার মারধর ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কলাবতী অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি চান তাঁর মেয়ে তাঁদের সঙ্গেই এক বাড়িতে থাকুক।
এই মামলায় বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, “একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কারও সঙ্গে থাকতে বাধ্য নন, শুধুমাত্র বাবা-মা বলেই তাঁকে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যায়নি।” এ ক্ষেত্রে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন। তাই তিনি নিজের পছন্দমতো জায়গায়, পছন্দের মানুষের সঙ্গেই থাকতে পারেন।