
নয়া দিল্লি: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ হল তিন বিল। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল। আসন পুনর্বিন্যাস হলে কত আসন সংখ্যা বাড়বে? কোন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কত হবে, তার ব্যাখ্যা দিল কেন্দীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল জানান যে তিনটি বিলই লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশে আনা হয়েছে। বর্তমানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ রয়েছে। তা বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংবিধান (১৩১ তম সংশোধনী) বিলে বলা হয়েছে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা হবে। এরমধ্যে ৮১৫ জন লোকসভার সাংসদ সমস্ত রাজ্য থেকে নির্বাচিত হবে, ৩৫ জন সাংসদ আসবেন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল আরও জানান যে সমস্ত রাজ্যের লোকসভা আসনই ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাবে। ৮১৫ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসন মহিলা সাংসদদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তিনি জানান, এই বিলে মহিলাদের রাজনৈতিক সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। কোনও রাজ্য এই বিধানে প্রভাবিত হবে না। ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পর এর বিধানগুলি কার্যকর করা হবে।
প্রসঙ্গত, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের সেভাবে আপত্তি না থাকলেও, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির আপত্তি রয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে আসন পুনর্বিন্যাস হলে, সেক্ষেত্রে উত্তর ভারতের আসন সংখ্যা অনেক বেশি হবে, সেই তুলনায় দক্ষিণ ভারতে জনসংখ্যা কম থাকায়, তাদের আসন সংখ্য়াও কমে যাবে। সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন যে আসন পুনর্বিন্যাসে কোনও রাজ্য বঞ্চিত বা ভেদাভেদের শিকার হবে না। প্রয়োজন হলে তিনি গ্যারান্টি দিতে রাজি।