Dharmendra Pradhan: অ্যানথ্রোপলজিতে এমএ, ছাত্রনেতা হিসেবে একসময় বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

Who is Dharmendra Pradhan: গত কয়েক বছরে পূর্ব ভারতে বড় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। আর তার অন্যতম পুরোধা হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম করে থাকেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা যায়, বিহারে ভোটের কৌশল তৈরি করা থেকে শুরু করে বিদ্রোহী নেতাদের চিহ্নিত করা, সবটাই তাঁর হাত ধরে হয়েছে।

Dharmendra Pradhan: অ্যানথ্রোপলজিতে এমএ, ছাত্রনেতা হিসেবে একসময় বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
ধর্মেন্দ্র প্রধানImage Credit source: Getty Image

Jul 25, 2026 | 4:26 PM

নয়া দিল্লি: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রায় এক মাস ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলার পর পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। বিগত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রকের (Education Ministry) দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রী শুধু একজন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা নন, দলের তথা সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। পূর্ব ভারতে বিজেপির একের পর এক সাফল্যের পিছনে যাঁদের কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ছাত্র রাজনীতি দিয়েই পথচলা শুরু করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের হাত ধরেই উত্থান তাঁর।

ছাত্রনেতা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র

ওড়িশার তালচেরে জন্ম ধর্মেন্দ্র প্রধানের। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য তিনি। তাঁর বাবা দেবেন্দ্র প্রধানও ছিলেন বিজেপি নেতা। একসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তাই সহজাতভাবেই স্কুলজীবনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানও ক্রমে রাজনীতিতে পা রাখেন।

তালচের কলেজে পড়াশোনা করেছেন ধর্মেন্দ্র। ওই কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতি শুরু। তালচের কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন তিনি। এবিভিপি-র হাত ধরে ধর্মেন্দ্রর সেই রাজনৈতিক পথচলাই তাঁর আগামীর কেরিয়ারের দিকনির্দেশ করেছিল।

তালচের কলেজে পড়াশোনার পর ভুবনেশ্বরের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানথ্রোপলজিতে মাস্টার ডিগ্রি করেন তিনি। তবে রাজনীতি কখনই ছাড়েননি তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই এবিভিপি-র ন্যাশনাল সেক্রেটারি করা হয় ধর্মেন্দ্রকে। ক্রমে গুরুত্ব বাড়তে থাকে তাঁর।

তবে ছাত্র রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি ধর্মেন্দ্র। বিজেপির হাত ধরে নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। ওড়িশার পাল্লাহারা কেন্দ্র থেকে ২০০০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়েন তিনি। চার বছরের মধ্যেই পৌঁছে যান লোকসভায়। ওড়িশার দেওগড় থেকে সাংসদ হন ধর্মেন্দ্র। তারপর রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি বিজেপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

২০১৪-তে প্রথমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রথম নরেন্দ্র মোদী সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০১৭-তে ওই দফতরেরই পূর্ণমন্ত্রী হন তিনি। সেই সময় পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস সেক্টরের নানা পলিসি সামলাতে হয়। পরে ২০২১-এ শিক্ষামন্ত্রী হন তিনি। ২০২০-তে তৈরি হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতির দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর হাতেই।

১৯৯৭ সালে ছাত্রনেতা হিসেবে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন প্রধান

দিল্লি যখন ছাত্র বিক্ষোভে উত্তপ্ত, তারই মধ্যে সামনে এসেছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছাত্রজীবন সম্পর্কিত তথ্য। ওড়িশায় যখন কংগ্রেসের সরকার ছিল ক্ষমতায়, সেই সময় নাকি ধর্মেন্দ্র একজন ছাত্রনেতা হিসেবে প্রায় ১৫০০ জন পড়ুয়াকে নিয়ে ওড়িশা বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কলেজের এক ‘জুনিয়র’ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সেই সময় নাকি বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে মার খেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। আহতও হয়েছিলেন তিনি।

বিহার-ওড়িশায় বড় ভূমিকা ছিল ধর্মেন্দ্রর

গত কয়েক বছরে পূর্ব ভারতে বড় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। আর তার অন্যতম পুরোধা হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম করে থাকেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা যায়, বিহারে ভোটের কৌশল তৈরি করা থেকে শুরু করে বিদ্রোহী নেতাদের চিহ্নিত করা, সবটাই তাঁর হাত ধরে হয়েছে। এছাড়া ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে একজন ওবিসি মুখ হওয়ায় বিহারে ওবিসি সম্প্রদায়ের সমর্থনও নাকি এসেছে তাঁর হাত ধরেই।

শুধু বিহার নয়, ওড়িশায় ২৪ বছরের বিজেডি সরকার ফেলে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও অন্যতম প্রধান কারিগর ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজনীতির কারবারিরা এও মনে করেন যে ওড়িশার ভোটার হওয়ায়, ধর্মেন্দ্রই ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাংসদ পদ থেকে না সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের জয়েও রয়েছে ধর্মেন্দ্রর অবদান। এছাড়া ২০২১-এ নন্দীগ্রামে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সেই জয়ের পিছনেও ধর্মেন্দ্র ছিলেন বড় ভূমিকায়।

Follow Us