
নয়াদিল্লি: সংসদকে পার্টি অফিসে পরিণত করবেন না। শাসক শিবিরের প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই বলেই ফুঁসে উঠলেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। বুধবার বিরোধী দলনেতাকে ‘সমর্থন’ করেই একযোগে সরকার ও স্পিকারকে আক্রমণ করলেন তিনি।
এদিন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী স্পিকার বিড়লার বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।” সেই পর্বেই তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন “সংসদে কোনও গণতন্ত্র নেই বললেও ভুল হবে না। এটা আসলেই সংসদীয় নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের মতামতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। বিরোধী সাংসদদেরই যদি নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে হয়, তা হলে আমরা জনগণের জন্য কীভাবে লড়াই চালাব?”
তাঁর সংযোজন, “রেল বাজেট বাতিল করা হচ্ছে, মধ্যরাতে বিল পেশ হচ্ছে। রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবকে কোনও বই উদ্ধৃত করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু তাঁদের প্রিয় পাত্রদের সেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সংসদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না।” প্রসঙ্গত বুধবার অনাস্থা প্রস্তাব বিতর্কের দ্বিতীয় দিনে হওয়া ভোটাভুটি স্পিকারের অপসরণের দাবিতে হেরে গিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা। রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাহ।
এদিন বিতর্কের মাঝে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘মেপে কথা উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির রবিশঙ্কর প্রসাদ। স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “স্পিকারকে পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব কোনও নেতার অহঙ্কার তুষ্ট করার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” জবাবে রাহুল বলেন, “লোকসভা কোনও এক দলের নয়। তা সমগ্র দেশের। কিন্তু সেখানে আমাদের ইচ্ছাকৃত ভাবে কথা বলতে দেওয়া হয় না।”