
নয়া দিল্লি: একদিকে এসআইআর প্রক্রিয়া তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন চর্চায় উঠে এসেছে ‘ফর্ম ৬’। নতুন ভোটারদের নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনের ফর্ম এটি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এসআইআর পদ্ধতিতে ব্যবহৃত পরিবর্তিত ‘ফর্ম ৬’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টও স্পষ্ট করে দেয় ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তনে সম্মতি দেয়নি আদালত। এবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় সেই ‘ফর্ম ৬’ প্রসঙ্গে উত্তর দিল নির্বাচন কমিশন।
সোমবার হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ তারা কোনও সংশোধন করেনি। এসআইআর-এর সময় যে অতিরিক্ত তথ্য় দিতে হয়েছে, তা একটি পৃথক নথি।
তাহলে বিভ্রান্তি কোথায়? কমিশন ব্যাখ্যা করেছে যে, ওই ডিক্লেয়ারেশন যেভাবে অনলাইনে ডিসপ্লে (দেখা যাচ্ছিল) করা হয়েছিল, তাতে মনে করা হচ্ছিল যে ফর্ম ৬ সংশোধন করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে ফর্ম ও ডিক্লেয়ারেশন পৃথকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে যে ফর্ম ৬ সংশোধন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই রয়েছে। ইলেকটর রোল, ১৯৬০-এই সে কথা বলা আছে। কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, আবেদনকারীরা যাতে একটিমাত্র ওটিপি (OTP) এবং ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন, সেইজন্য অনলাইন আবেদন পোর্টালে ফর্ম ৬-এর পাশেই ওই তথ্য দেওয়ার নথি দেওয়া হয়েছিল।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ -এর রিপোর্টকে বলা হয়, এই ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফর্ম ৬-এ কোনও বদল আনতে গেলে, সরকারের অনুমোদন নেওয়া জরুরি। এই বিষয়েও তিন নির্বাচন কমিশনারের মতপার্থক্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বিতর্ক সামনে আসার পর কমিশন বিবৃতিতে জানায়, এসআইআরের জন্য সংশোধিত ফর্ম ৬-এ যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত। পরে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মডিফায়েড ফর্ম ৬ আমরা অনুমোদন করিনি। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।” এরপরই প্রশ্ন ওঠে, নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য কি তবে ভুল? পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে যে নতুন ফর্ম ৬-এর বিষয়টিতে তারা অনুমোদনও দেয়নি, বাতিলও করেনি। শীর্ষ আদালত এদিন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, প্রধান বিচারপতি যা বলেছিলেন, তার অর্থ হল, সেই সময় নতুন ফর্ম ৬-এর অস্তিত্ব না থাকায়, সেটা খতিয়ে দেখেওনি সুপ্রিম কোর্ট।