
নয়া দিল্লি: সংসদে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। কল্যাণ-মহুয়া সংসদে পৌঁছলেন এক গাড়িতে চেপে। যারা রাজনীতির নিয়মিত খবর রাখেন, তাদের কাছে এ ছবি মানে কল্যাণ-মহুয়ার এক গাড়ির যাত্রী হওয়া ভারি আশ্চর্যের। দশ মাস আগের ঘটনা। গত বছর অগাস্টে কল্যাণ-মহুয়ার তিক্ততা রোজ হেডলাইন হত। কল্যাণ মহুয়াকে ভার্সেটাইল ইন্টারন্যাশনাল লেডি বলে খোঁচা মেরেছিলেন। মহুয়া বলেছিলেন, “কল্যাণ নারীবিদ্বেষী।” হোয়াটসঅ্যাপে কল্যাণ-মহুয়া-কীর্তি আজাদের জোর বাদানুবাদ। সেই চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায়। কল্যাণের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পর্যন্ত ছুটে যান মহুয়া। এক আধাসেনা জওয়ানকে দেখে বলে ওঠেন, অ্যারেস্ট হিম! পাল্টা মহুয়াকে দেখে কল্যাণ সর্বসমক্ষে বলে ওঠেন, আজকে দিনটা গেল রে!
আজকের ছবি! এক গাড়িতে কল্যাণ-মহুয়া। এই ক’দিন আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার যে অভিযোগ করেছেন কল্যাণের বিরুদ্ধে। যে অভিযোগ তুলে স্পিকারের কাছে কল্যাণের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলেছেন কাকলি। ঠিক সেই অভিযোগ তখন করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। আজ সেই অস্থায়ী রাগ-অভিমান সব ভেসে যেতে দেখল বাংলা। কাকলি একদিকে, কল্যাণ-মহুয়া আরেকদিকে, শুধু এটুকুই নয়। কাকলি-প্রশ্নে কল্যাণের পাশে থাকার বার্তাই দিলেন মহুয়া মৈত্র। কাকলিকে নিয়ে খানিকটা তাচ্ছিল্যের সুরই মহুয়ার গলার। রাজনীতিতে সব সম্পর্ক অঙ্কে চলে, এটাই কি আবার প্রমাণ হয়ে গেল না?
পাড়াগাঁয়ের লোক দেখলে নির্ঘাত বলতেন, উফ কী পিরিত! ওই যে বললাম না, অঙ্ক ছাড়া রাজনীতির সম্পর্ক হয় না। এই ক’দিন আগে অভিষেককে নিয়ে কী অসন্তোষই না দেখালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!
আজ সেই তিনিই অভিষেকের সঙ্গী। দিল্লির মিডিয়াকে কল্যাণ বলে দিলেন, আরে আমার দিকে নয়, অভিষেকের দিকে ক্যামেরা তাক করুন। কী বলবেন? সব সম্পর্কই অঙ্কে চলে না? মহুয়াকে আক্রমণ করে কাকলির পোস্ট, “জাতীয় সুরক্ষার বারোটা বাজিয়ে গোপন তথ্য বিক্রি করায় সাংসদ পদ চলে গিয়েছিল ওঁর। সে সব কেউ ভোলেনি এখনও।”