
অযোধ্যা: রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে বিপুল টাকা চুরি (Ram Mandir Donation Theft)। অন্তত সাড়ে সাত লাখ টাকা চুরি গিয়েছে। সঙ্গে রামলালার গহনাও চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ। অযোধ্যার রামমন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) দানবাক্স থেকে আর্থিক তছরুপের ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্যের নাম উঠে আসছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে আটজনকে। অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন অনুকল্প মিশ্র এবং তাঁর ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্র। রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর এদের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো ছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে ভক্তদের দান করা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার দায়িত্বে থাকা টিমের সদস্য ছিলেন অনুকল্প মিশ্র। অভিযোগ, তিনিই তাঁর ভগ্নিপতি লবকুশকে ওই দলের সদস্য হিসাবে নিয়োগ করিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির গোটা চক্রের মূল চক্রী এই অনুকল্পই।
এই অনুকল্পের জীবনযাত্রার বদল সকলের নজর কেড়েছে। অযোধ্যার বাসব গ্রামে তাঁর বাড়ি। গ্রামের অন্যান্য বাড়ির তুলনায় অনুকল্পের বাড়ি বিরাট বিলাসবহুল। এক নজরেই গ্রামের সবথেকে অভিজাত বাড়ি বলে আন্দাজ করা যায়।
তবে গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, কয়েক বছর আগেও মিশ্র পরিবার আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অনুকল্পকে “ভালো মানুষ” বলতেও রাজি নন।
অনুকল্পের দাদু রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র পুলিশকে জানিয়েছেন, অনুকল্পের বাবা সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সে আলাদা বসবাস করেন। তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল গ্রামে অনুকল্প সাত দিনব্যাপী একটি বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, ওই অনুষ্ঠানেই শেষবার নাতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে রামমন্দিরে তছরুপের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রামমন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অযোধ্যার মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েত সভাপতির প্রতিনিধিকেও দেখা যায়। এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, সম্প্রতি গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি ফার্মহাউস তৈরি করেছেন অনুকল্প মিশ্র। গত বছর তিনি অযোধ্যা শহরে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা দামের একটি বাড়ি কিনেছেন বলেও জানা গিয়েছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, আগে থেকেই একটি গাড়ি থাকলেও, সম্প্রতি একটি স্করপিও এসইউভি বুক করেছিলেন অনুকল্প।
জানা গিয়েছে, একটি ব্যাঙ্কের আউটসোর্সিং সংস্থার কর্মী হিসেবে প্রায় তিন বছর আগে রামমন্দিরের দান গণনার টিমে যোগ দেন অনুকল্প। পরে একই সংস্থার মাধ্যমে তিনি তাঁর ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রকেও ওই টিমে নিয়ে আসেন।
রুদৌলি এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা লবকুশ বর্তমানে অযোধ্যায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর প্রতিবেশীদের দাবি, সম্প্রতি তিনি এক লক্ষ টাকারও বেশি দামের একটি বাইক কিনেছেন।
রাম মন্দিরের দানবাক্সে আর্থিক তছরুপের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। তাতেই একের পর এক চাঞ্চল্য়কর তথ্য উঠে আসছে।