
কলকাতা: উদ্বেগের মেঘ ক্রমেই আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান-কাতারের গ্যাস ভাণ্ডারে হামলায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক। সকাল সকাল এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস। বাজার খুলতেই ১৬০০ পয়েন্টের বেশি পড়ল সেনসেক্স। প্রায় ৫০০ পয়েন্ট পতন নিফটির। ২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ হারে পড়ল নামী-দামি সংস্থার শেয়ারের দর। প্রথমে ইরানের সাউথ পারস গ্যাস ফিল্ডে হামলা ইজরায়েলের। পরে কাতারের রাস লাফান এলপিজি ভাণ্ডারে হামলা ইরানের। তার জেরেই নতুন করে বিশ্বজুড়ে গ্যাস সঙ্কটের আশঙ্কা।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সকাল ৯:১৬ নাগাদ, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স (BSE Sensex) প্রায় ১৬৩২ পয়েন্ট বা ২.১৩% কমে ৭৫,০৭২.২৪-এ নেমে আসে। অন্যদিকে, নিফটি৫০ (Nifty50) প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা ২.১০ শতাংশ কমে ২৩,২৭৭.৩৫ সূচকে নেমে যায়।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস-এর প্রধান বিনিয়োগ স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমারও রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, তেলের দাম এভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য মোটেও ভাল খবর নয়। তেলের দাম দীর্ঘকাল ধরে ১১০ ডলারের উপরে থাকলে ভারতের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধি, কোম্পানিগুলোর আয়ের উপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে যুদ্ধ যদি দ্রুত থেমে যায়, তেলের দাম কমতে শুরু করলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। একইসঙ্গে এই বছর মাত্র একবার সুদের হার কমানো হতে পারে বলও ইঙ্গিত দিয়েছে। এই খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। প্রভাব পড়েছে আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে এশিয়ার সমস্ত শেয়ার বাজারেই।