
পটনা: চলতি বছরের শেষে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ পাওয়া গেল বিহার বিধানসভায়। বিহারের বাজেট অধিবেশনেই ‘আমার বাবা বনাম তোমার বাবা’ দেখা গেল। বাবাদের নিয়ে তরজায় জড়ালেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব।
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে তেজস্বী বলেন, “আগে সম্রাটজি বিজেপিকে আক্রমণ করতেন। এখন কী হল?” এরপরই তিনি বলেন, “এখানে সম্রাট চৌধুরি বসে রয়েছেন। আমি তাঁর বাবার নাম নিতে চাই না। কিন্তু, তাঁর বাবা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কী বলতেন? আপনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আপনার বাবা মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অপমানকর মন্তব্য করেননি? উঠে দাঁড়ান। এবং যদি পারেন তাহলে অস্বীকার করুন।”
তেজস্বীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি বিধায়করা হইচই শুরু করেন। তখন তেজস্বীর বাবা লালুপ্রসাদের প্রসঙ্গ টেনে সম্রাট বলেন, “আপনার বাবা কী বলেছিলেন? তিনি বিহারকে লুট করেছেন। পুরো রাজ্য লুট করেছেন। আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। লালুপ্রসাদ আমাকে জেলে পাঠান।”
তেজস্বী যাদবের বাবা লালুপ্রসাদ যাদব আরজেডি সুপ্রিমো। তিনি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, সম্রাট চৌধুরির বাবা শকুনি চৌধুরি প্রাক্তন সেনাকর্মী। রাজনীতির ময়দানে প্রথমে তিনি কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছিলেন। পরে কখনও লালুপ্রসাদের দলে যোগ দিয়েছেন। কখনও নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন।
সম্রাট চৌধুরিও একসময় লালুপ্রসাদের দলে ছিলেন। এমনকী, রাবড়ি দেবী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি মন্ত্রীও হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে জেডিইউ-তে যোগ দেন। তিন বছর পর বিজেপিতে যোগ দেন। এবং বিহারে বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।