
গত তিন বছর ধরে ভারত লাগাতার পরমাণু অস্ত্রের বহর বাড়িয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, ভারতের ভাঁড়ারে আজ ১৯০-টি পরমাণু বোমা মজুত। শুধু তাই নয়, সিপরি-র রিপোর্ট বলছে, ভারত এই প্রথম কমপক্ষে ১২টি হামলাকারী নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে মোতায়েন রেখেছে। এখন আর শুধু উৎপাদন বা জমিয়ে রাখা নয়। হামলা চালাতে প্রস্তুত পরমাণু বোমার সুরক্ষা বলয় দিয়ে দেশকে ঘিরে রেখেছে সেনা।
প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের রেকর্ড। ২০২৫-এ ৯২.১ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করেছে দিল্লি। যা গতবছরের চেয়েও প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। গোটা বিশ্বে ভারতের চেয়ে বেশি খরচ করেছে মাত্র আর চারটি দেশ। আমেরিকা, চিন, রাশিয়া ও জার্মানি। এই চার দেশের পরই ভারতের স্থান। বিশ্বের সব দেশের অস্ত্র ভান্ডার, সংঘর্ষ, খরচ নিয়ে গবেষণা করে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপরি। তাদের রিপোর্ট বলছে, গতবছর ভারত সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে ৮০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে। শুধু তাই নয়, এই প্রথম ভারতীয় সেনা ১২টি পরমাণু বোমা বহনকারী ব্যালিস্টিক মিসাইল দেশের সব প্রান্তে মজুত রেখেছে। তবে পরমাণু অস্ত্রে ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ পলিসি’ বা প্রথমে হামলা হয় নীতিতে কোনও বদল আসেনি।
ভারত নিয়ে সিপরি-র রিপোর্টে বলা হয়েছে-
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত গত কয়েক বছরে পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সিপরি-র রিপোর্টে প্রকাশ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কাছে ১৯০-এরও বেশি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। যা পাকিস্তানের চেয়ে ঢের বেশি। ভারত এখন জল, স্থল ও আকাশ- তিন জায়গা থেকেই পরমাণু হামলায় দক্ষ। যুদ্ধের ভাষায় একে বলে নিউক্লিয়ার ট্রায়াড। ভারতীয় সেনা যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও মাটি থেকে মিসাইলের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড হামলা চালাতে পারে। তবে পরমাণু অস্ত্রের বহর বাড়ানোর ইঁদুর দৌড়ে ভারত নেই। ভারত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরমাণু অস্ত্রভান্ডার মজুত ও প্রস্তুত রেখেছে। চিন ও পাকিস্তানের মতো পরমাণু অস্ত্রধর দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভারতও আজ চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
কতটা শক্তিশালী ভারত?
দেশীয় প্রযুক্তিকে আরও ধারালো করার পাশাপাশি আমেরিকা, রাশিয়া ও ইজরায়েলের কাছ থেকেও অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনেছে ভারত। গত চার বছরে ইউক্রেন, কাতারের পাশাপাশি অস্ত্র আমদানিতে ভারত প্রথম সারিতে রয়েছে। ১৯৯৮-তে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের নিউক্লিয়ার কমান্ড অথরিটি বা NCA-র স্পষ্ট নীতি, No First Use। তবে, এই নয়া ভারত যদি পারমাণবিক, রাসায়নিক বা জৈবিক হামলায় আক্রান্ত হয়, শত্রুকে ছেড়ে কথা বলবে না। ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর কাছেই আজ মজুত পরমাণু অস্ত্র। সিপরি-র রিপোর্টে, অপারেশন সিঁদুর-কে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর-চলাকালীনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, ভারতকে এখন পরমাণু বোমার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না। মোদির সেই হুঁশিয়ারি যে কথার কথা ছিল না, সেটা আজ স্পষ্ট। যখন ভারত দেশের সবপ্রান্তে অন্তত ১২টি পরমাণু বোমা যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে মোতায়েন রেখেছে।