
নয়া দিল্লি: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। চিকিত্সার ক্ষেত্রে বিশ্ব জুড়ে নতুন এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে বেশিরভাগ জীবাণুই মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চেনা ওষুধে আর কাজ হচ্ছে না। সাধারণ জ্বর, পেটের অসুখও প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকে সারছে না। বরং আরও নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। ডাক্তাররাও নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। রোগীর ভোগান্তি বাড়ছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বার্তা দিচ্ছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স কমপ্লিট করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরাও কারণ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বেড়েই চলেছে। এমন একটা অবস্থায় দরকার ছিল এমন এক নতুন ওষুধের, যার নাগাল এখনও জীবাণুরা পায়নি। সেটাই তৈরি করে ফেলেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)।
কেন্দ্রীয় সরকারের বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিলের গবেষকরা দেশীয় প্রযুক্তিতে এই সুপার অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করেছেন। যা কিনা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটিরিয়াদেরও মেরে ফেলতে সক্ষম। ওষুধ তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল মুম্বইয়ের সংস্থা ওকহার্টকে। তারা সেই ওষুধ তৈরিও করে ফেলেছে। নাম দেওয়া হয়েছে ZAYNICH। এই ওষুধ ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোল আর আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে।
বলা হয়েছে, নতুন এই ওষুধ সেপসিস, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া এবং জটিল টাইফয়েডের মত অসুখে কাজ করবে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের জন্য যাঁদের মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনির সংক্রমণ সারছে না, তাঁদের রোগ সারাবে ZAYNICH। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওষুধের ক্লিনিক্যাল কিওর রেট ৯৭ শতাংশ, যা খুবই ভালো।
WHO-এর এক রিপোর্ট বলছে, আগামিদিনে সারা বিশ্বে বছরে ৪ কোটি মানুষ মারা যাবেন শুধুমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে। সেখানে ভারতের এই নতুন ওষুধ আবিষ্কার, বিশ্বের কাছে এক নতুন আশা। ওকহার্ট জানিয়েছে, এই বছরের শেষদিকে তারা ওষুধ বাজারে আনবে। ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে দশভাগের একভাগ দামে ভারতের বাজারে এই ওষুধ বিক্রি হবে। শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদেরই দরকার মতো ৩ দিনের কোর্সে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে এই ওষুধ দেওয়া হবে।