
কলকাতা: অক্টোবর মাসেই অনেকটা নীরবেই ভারত একটা মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলল। দেশে এই প্রথমবার রিনিউবেল এনার্জি উত্পাদন ২০০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে গেল। Central Electricity Authority-র ডেটা বলছে, গত মাসে ফসিল ফুয়েলের বিকল্প বিদ্যুতের উত্পাদন পৌঁছে যায় ২০৩ গিগাওয়াটে। যা কিনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের টার্গেট ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট রিনিউবেল এনার্জি উত্পাদন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে নেক্সট টার্গেট অ্যাচিভ করতে অসুবিধা হবে না।
প্রসঙ্গত, দেশে রিনিউবেল এনার্জির মধ্যে এখন সবার আগে রয়েছে সৌর বিদ্যুৎ। এরপরই আসবে উইন্ড মিল থেকে পাওয়া বায়ুবিদ্যুত। তারপর বায়ো-গ্যাস এনার্জি আর চার নম্বরে আছে পরমাণু বিদ্যুত। ভারতের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের কার্বন ফুট প্রিন্ট যদি কমতে থাকে তাহলে ভাল হবে সারা দুনিয়ারই। তাছাড়া সরকারি তথ্য বলছে যে রিনিউবেল এনার্জি সেক্টরে গতবছর প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানও হয়েছে। যেটা আরও একটা লাভ। রিনিউবেল এনার্জি উত্পাদনে এখন দেশের মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে রাজস্থান। তারপর গুজরাত ও তামিলনাড়ু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোলার বা উইন্ড এনার্জি তৈরির ক্যাপাসিটি বাড়লেই তো শুধু হল না, ফসিল ফুয়েলের ব্যবহারও আমাদের সমানতালে কমাতে হবে। সরকারি হিসেব বলছে বর্তমানে দেশে নথিভুক্ত পেট্রোল-ডিজেল চালিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি। প্রতি বছর সেই সংখ্যাটা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এটাকে কমানোর জন্য ব্যাটারি, সিএনজি, হাইড্রোজেন চালিত গাড়ির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। চেষ্টা চলছে ঘরের মাটিতে বিশ্বমানের ব্যাটারি তৈরিতে। সঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যায় চার্জিং স্টেশনের ব্যবস্থাও। যে জায়গাটায় এখনও আমরা পিছিয়ে।