
নয়াদিল্লি: একদিকে ভারতে নিজেদের পণ্য উৎপাদনে জোর দিয়েছে বিদেশি সংস্থাগুলি। তখন বিশ্ববাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে এমন সব কৃষিপণ্য ভিনদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি। ফলে ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। আত্মনির্ভর ভারত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পথে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে গিয়েছে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক, মোদী সরকারের আমলে কোন কোন কৃষিপণ্য প্রথমবার ভিনদেশে রফতানি করা হয়েছে-
প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় ডালিম-
জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছে ভারতীয় ডালিম। এই প্রথমবার। মোদীর আমলের আগে ভারত থেকে কখনও অস্ট্রেলিয়ায় ডালিম রফতানি হয়নি। সাঙ্গোলা এবং বাগওয়া ডালিম পাঠানো হয়েছে সেদেশে। আর এই ডালিমের হাত ধরে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ভারত থেকে তাজা ফলের রফতানি বাড়ার দরজা খুলে গিয়েছে।
২০২৪ সালে পোল্যান্ডে প্রথমবার ডুমুরের রস রফতানি করে ভারত। ভারতের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত পুরন্দর ডুমুর এর আগে ২০২২ সালে জার্মানিতে রফতানি করা হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রথমবার লন্ডন ও বাহরাইনে ড্রাগন ফল রফতানি করা হয়েছিল। গুজরাটের কচ্ছের কৃষকদের কাছ থেকে ড্রাগন ফল লন্ডনে পাঠানো হয়েছিল। আর পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকদের উৎপাদন করা ড্রাগন ফল পাঠানো হয় বাইরাইনে।
আমেরিকার বাজারেও ভারতীয় কৃষিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে আকাশপথে আমেরিকায় ডালিম পাঠানো হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ছাপ ফেলেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষিপণ্য। অসমের বার্মিজ আঙুর (স্থানীয়রা বলেন লেতেকু) ২০২১ সালে প্রথমবার গুয়াহাটি থেকে দুবাই পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার ত্রিপুরার কাঁঠালের স্বাদ পান জার্মানির নাগরিকরা। আকাশপথে ত্রিপুরা থেকে জার্মানি পাঠানো হয়েছিল কাঁঠাল। ওই বছরই নাগাল্যান্ডের “রাজা” লঙ্কা পাঠানো হয় লন্ডনে। গুয়াহাটি থেকে বিমানে করে সেই লঙ্কা পাঠানো হয়। ২০২১ সালে অসমের লাল চাল প্রথমবার আমেরিকার বাজারে পাঠানো হয়।
২০২২ সালে কেরলের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত ভাঝাকুলাম আনারস পাড়ি দেয় দুবাই ও শারজাতে। এর ফলে দক্ষিণের এই রাজ্যের কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে যায়।