
নয়া দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের কংগ্রেসের বড় ক্ষতি এবং বিজেপির বড় লাভ। রবিবার (২৪ মার্চ) বিজেপিতে যোগ দিলেন দেশের অন্যতম বড় শিল্পপতি তথা কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ নবীন জিন্দল। সূত্রের খবর, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র আসন থেকে নবীন জিন্দলকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। তবে এই বিষয়ে এখনও সরকারি কোনও ঘোষণা হয়নি। এদিন সকালেই কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়েছিলেন নবীন জিন্দল। ২০০৪ সালে প্রথমবার নির্বাচনী রজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন নবীন জিন্দল। কুরুক্ষেত্র আসন থেকেই কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে একই আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, ২০১৪ সালে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবার কি রং বদলে একই আসন থেকে ফের লোকসভায় যাবেন তিনি?
বিজেপিতে যোগদানের পর, নবীন জিন্দল বলেন, “আজ আমার জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ আমি বিজেপিতে যোগ দিয়ে গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশের সেবা করতে পারব আমি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নে আমি অবদান রাখতে চাই।” তার আগে, রবিবার সন্ধ্যায় তিনি টুইট করেন, “আমি ১০ বছর কুরুক্ষেত্রের সাংসদ হিসাবে সংসদে কংগ্রেস পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছি। আমি কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজ আমি কংগ্রেস পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করছি।”
নবীন জিন্দলের প্রাথমিক পরিচয় শিল্পপতি হলেও, ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে তাঁর। আমেরিকার ডালাসে, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীনই তিনি সেখানকার ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন। বর্ষসেরা ছাত্রনেতার পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর কোর্সের পড়াশোনা শেষ করার পর, জিন্দাল ভারতে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর বাবা ওম জিন্দলও কংগ্রেসী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হরিয়ানা সরকারে শক্তি বিভাগের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা শুরু করেছিলেন নবীন।
পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন নবীন। সাংসদ হিসেবে তিনি জোর দিয়েছিলেন, দুর্নীতি, জনবিস্ফোরণ, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রের সমস্যাগুলির সমাধানে। খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষা প্রকল্পের জন্য লোকসভায় একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিলও পেশ করেছিলেন তিনি। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উপদেষ্টা কমিটি, অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের উপদেষ্টা কমিটির মতো বেশ কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।