
নয়া দিল্লি: এবার জল্পনা বাড়ালেন রাজ্যসভার তৃণমূলের অপর সাংসদ রাজীব কুমার (Rajib kumar)। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা রাজ্যসভার সাংসদ (কোয়েল মল্লিক, প্রকাশ চিক বড়াইক, সুখেন্দু শেখর, সুস্মিতা দেব)-রা তাঁর হাত ছেড়েছেন। এর মধ্যে কোয়েল বাদে বাকি তিনজন যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রয়েছেন গিয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদ। তারই মধ্যে অন্যতম রাজীব। এবার তাঁরই গতিবিধি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে জল্পনা। সম্প্রতি, একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে ছিলেন তিনি। ১৫ দিন যেতে না যেতেই এবার কি তিনি শিবির বদলাচ্ছেন? উঠছে প্রশ্ন।
মূলত, রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করতে বাংলার সাংসদদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ডাকা সেই বৈঠকে গতকাল সংসদ চত্বরে বিজেপি এবং এনসিপিআই সাংসদদের পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার এবং লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। রাজ্য সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, সেখানেই NCPI সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে দেখা যায় রাজীবকে। কাকলী নিজের ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে পাশাপাশি দেখাও গিয়েছে রাজীবকে। তবে সাংসদ লিখেছেন,ঘরে ঘরে পাইপলাইনে জল পৌঁছানোর কাজ সম্পূর্ণ করার দাবিতেই ছিল বৈঠক।
পালা বদলের পর তৃণমূল যখন পুরো ধসে যেতে শুরু করে সেই সময় রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়ে জল্পনা ছড়াতে শুরু করে। কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতেও দেখে যায়নি তাঁকে। তবে সেই নিঃস্তব্ধতা ভেঙে তৃণমূলের শহিদ দিবসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। পৌঁছে যান মমতার সভায়।
এই আইপিএস অফিসারের সঙ্গে বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক রয়েছে তা সর্বজনবিদিত। তিনি এ রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি। এছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছিল। পরে মমতা রাজীবকে রাজ্যসভায় পাঠান। তবে, সুপ্রিমো ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর তাঁর দীর্ঘদিনের বহু ‘সৈনিক’হাত ছেড়ে কেউ ‘ভাল তৃণমূল’হয়েছেন, কেউ আবার NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় রাজীব কী করেন এখন সেইটাই দেখার।
এ দিকে, গতকালের বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব দ্রুত রাজ্যের ২৬০০ কোটি কেন্দ্রীয় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে, রাজ্যের পূর্তমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী আলাদা ভাবে নির্দেশ দেন, উন্নয়নের কাজে সাংসদদের যুক্ত করতে হবে।
প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “এর আগেও বহুবার মানুষের মুখে পানীয় জল তুলে দিতে পারিনি তখনও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারপরই সরকারের পরিবর্তন। গতকাল দিল্লিতে মিটিং। আমার কেন্দ্রের মানুষের যে জলের সমস্যা হচ্ছে সেটা বলি। শুধু যাইনি আমার বক্তব্য পেশ করার সঙ্গে একটি চিঠি লিখেছি যাতে আমার সংসদীয় কেন্দ্রের ৭ বিধানসভায় পরিশ্রুত পানীয় জল দেওয়া হয়।” তবে, কাকলীর সঙ্গে রাজীবের কী নিয়ে কথা হয়েছে তা জানেন না প্রতিমা বলে দাবি।