
তেহরান: হরমুজ নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণই নেই? নয়াদিল্লির চোখের সামনে তৈরি হওয়া অশনি সংকেতকে কি তা হলে ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দিল তেহরান? বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থার মাধ্যমে ইসলামিক রিভলিউশোনারি কোর্পস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ শুধুমাত্র আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং অন্যান্য পশ্চিমা-মিত্রদের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন উল্লেখ করে ইরানের ‘বিপ্লবী বাহিনী’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে চাপানো নিষেধাজ্ঞা কোনও ভাবেই অবৈধ নয়। যুদ্ধপরিস্থিতি তারা নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্বের কথা মাথায় রেখে যে কোনও রকমের বদল ঘটাতে পারে। তাঁদের দাবি, এই হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করেই ইরানের উপর নজরদারি চলছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ছাড় দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র রাশিয়া এবং চিনের তেলবাহী জাহাজকে। ফলত, দেশের পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে তৈরি হয় উদ্বেগ। কিন্তু এই আবহেই আবার নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ভারতীয় জলসীমার কাছে রাশিয়ার প্রা ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, দিল্লি চাইলে এই তেল ব্যবহার করতে পারে। তবে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা করেনি তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালেই বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির। সমাজমাধ্যমে সেই কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়ার শঙ্কার বিষয়েই কথা হয়েছে দু’জনের। আলোচনার ফাঁকে উঠে এসেছে ভারতীয় জাহাজের পরিস্থিতির কথাও। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, হরমুজ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের উপর প্রভাব পড়ার সম্ভবনা কার্যত কম। যেমন সহযোগিতা করতে চায় মস্কো, তেমনই সুর নরম ইরানেরও।
তবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলায় ভারতও যে প্রস্তুত, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী। মঙ্গলবার হরদীপ সিং পুরী বলেন, ‘‘দেশ জুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও মজুতের অবস্থার মনিটরিং করার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার সক্রিয় কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারের কাছে যথেষ্ট তেল মজুত রয়েছে। ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার সর্বোচ্চ।’’