
নয়াদিল্লি: ফ্রান্সে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৫০টি সংগঠন। এমনই দাবি করা হয়েছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে। ফ্রান্সে পড়ুয়াদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক সংগঠন এবং বিদেশি অর্থের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল এবং প্যালেস্তাইনপন্থী মঞ্চ।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান সাংবাদিক আসরা নোমানি ওই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের বিক্ষোভ আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের বিক্ষোভের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর আশঙ্কা, বিভিন্ন দেশে একই ধরনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। স্বাধীনভাবে সেগুলির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ফক্স নিউজের অনুসন্ধানে ৫০টি সংগঠনের নাম-
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিহ্নিত ৫০টি সংগঠনের মধ্যে মাত্র ১৫টি ছিল ছাত্র বা যুব সংগঠন। বাকি ৩৫টির মধ্যে ছিল শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং একটি প্যালেস্তাইনপন্থী গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলি বিক্ষোভের পরিসর বাড়াতে সাহায্য করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ফক্স নিউজের ওই প্রতিবেদনে। পাশাপাশি, কমিউনিস্ট ও ইসলামপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত কিছু মঞ্চ বিক্ষোভে সমর্থন জোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ফ্রান্সের ছাত্রসমাজের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকার দিকে নজর টেনেছে। তবে কোনও সংগঠন বিক্ষোভে অংশ নিলেই যে তারা বিদেশি অর্থে পরিচালিত কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, এমনটা প্রমাণিত হয় না।
ভারতও পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে, সতর্কবার্তা আসরা নোমানির-
কমিউনিস্ট ও সামাজিক সংগঠনগুলিকে ঘিরে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান সাংবাদিক আসরা নোমানি। তাঁর অভিযোগ, ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভের সঙ্গে ভারতের বিক্ষোভেরও যোগসূত্র রয়েছে। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে নোমানি তাঁর আগের সতর্কবার্তা—‘NEXT: INDIA’—উল্লেখ করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ভারত পরবর্তী লক্ষ্য’। তাঁর দাবি, আগে যে পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন, এখন সেই ঘটনাগুলিই ঘটছে। তিনি ফক্স নিউজের প্রতিবেদনটিও শেয়ার করেন। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু মতাদর্শগত গোষ্ঠী ছাত্র আন্দোলনকে বৃহত্তর কমিউনিস্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করে।
সাংহাইয়ে বসবাসকারী আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী নেভিল রয় সিংহামের কথাও উল্লেখ করেছেন নোমানি। তাঁর অভিযোগ, সিংহামের সঙ্গে যুক্ত অর্থ ভারতে প্রচারমূলক কার্যকলাপ ও জনমতকে প্রভাবিত করার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে। সিংহামের ঘনিষ্ঠ বৌদ্ধিক সহযোগী ও সংগঠক হিসেবে বিজয় প্রসাদের নামও উল্লেখ করেছেন নোমানি। তবে এই ব্যক্তিদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ রয়েছে এবং তার পরিসর কতটা, তা প্রতিষ্ঠা করতে প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে ভারতীয় অ্যালায়েন্স প্যারিসের উল্লেখ-
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ নামে একটি সংগঠনের কথাও বলা হয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসকারী পড়ুয়া, গবেষক এবং পেশাদারদের প্রতিনিধিত্ব করে এই সংগঠন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিরোধিতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল সংগঠনটি। নিউ ইয়র্কের বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ‘দ্য পিপলস ফোরাম’-এ ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে নেভিল রয় সিংহামের কাছ থেকে ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার অর্থসাহায্য পেয়েছিল দ্য পিপলস ফোরাম। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের উদাহরণ হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনও অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক হওয়া মানেই বৃহত্তর রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা বা বিদেশি অর্থে পরিচালিত কোনও অভিযানের অংশ হওয়া নয়।