
শ্রীনগর: মকর সংক্রান্তিতে বাংলা-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। রবিবার রাজধানীতে তাপমাত্রা ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। অথচ একেবারে উলট পুরাণ ভূ-স্বর্গে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শ্রীনগরের তাপমাত্রা দিল্লির থেকে বেশি। এছাড়া এবারে জম্মু ও কাশ্মীরে তুষারপাতও কম হয়েছে। বলা ভাল, এই জানুয়ারিতে বরফ-শূন্য ভূ-স্বর্গ। যা পর্যটকদের ভীষণ হতাশ করেছে। তবে কেবল পর্যটকেরা শীত মরশুমে কাশ্মীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, তুষারপাত কম হওয়ায় গ্রীষ্মে জলের ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
মৌসম ভবনের খবর, দিল্লি সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তীব্র ঠান্ডা অব্যাহত রয়েছে। শ্রীনগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্যের নীচে কয়েক ডিগ্রি নেমে গেছে। তবে গত ৪৮ ঘণ্টায় শ্রীনগরের তাপমাত্রা দিল্লির চেয়ে বেশি উষ্ণ বলে রেকর্ড করা হয়েছে। আবার জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তপ্ত অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় ১০ ডিগ্রি কম হিসাবে রেকর্ড হচ্ছে। শনিবার কাশ্মীরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা দিল্লির চেয়ে বেশি। আবার যখন দিল্লি-সহ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সব রাজ্যে ঘন কুয়াশায় ম্লান হয়েছে সূর্যের দাপট, তখন কাশ্মীরে রোদ ঝলমলে আবহাওয়া।
আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকদের মতে, জানুয়ারি মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের এই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৪ বছর পর হয়েছে। এবারে জম্মু ও কাশ্মীরে তুষারপাত কমেছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেখানকার বাসিন্দারা। ভবিষ্যৎ-পরিস্থিতির কথা ভেবে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মতে, ডাল লেকে বসবাসরত পর্যটকদের ভিড় বেড়ে গিয়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে আবহাওয়ায়।
তুষারপাত কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন পর্যটকরা
জম্মু ও কাশ্মীরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ডাল লেকে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু, এবারে তুষারপাত নেই। ফলে পর্যটকদের ভিড়ও কমেছে। ডাল লেকে আসা বেনারসের কিছু পর্যটক আক্ষেপের সুরে জানান, কাশ্মীরের ঠান্ডা এবং তুষারপাত উপভোগ করতে তাঁরা এখানে এসেছেন। কিন্তু তুষার না থাকায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং এখন এমন কিছু জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যেখানে কিছু বরফ দেখা যায়। যাতে তাঁদের কাশ্মীরের বরফ দেখার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।