
তিরুবনন্তপুরম: বাম দুর্গে ফাটল। কেরলম (Keralam Assembly Election Results 2026)-ও হাতছাড়া হয়ে গেল সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফের (LDF)। ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস শাসিত ইউডিএফ (Congress Led UDF)। ১৪০ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্য়েই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পার করেছে ইউডিএফ।
রাজনীতির মানচিত্রে অধিকাংশ রাজ্য থেকেই মুছে গিয়েছে সিপিআই(এম)। একমাত্র কেরলের ক্ষমতায় তাদের আসা-যাওয়া ছিল। তবে এবার এক্সিট পোলেই আভাস মিলেছিল যে কেরলে ফের সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। ভোটগণনা শুরু হতেই সেই চিত্রই উঠে এল। কেরলে হারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের আর কোনও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকল না বামেরা।
এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে কেরলের ১৪০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস শাসিত ইউডিএফ ১০২টি আসনে এগিয়ে। বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ ৩৬টি আসনে এগিয়ে। এবার কেরলে পদ্মও ফুটছে। ২টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। এবারের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইউডিএফ।
১৪ জন এলডিএফের মন্ত্রী নিজেদের আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী চণ্ডি ওম্মান, যিনি কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওম্মান চণ্ডির ছেলে, তিনি পুথুপল্লী আসন থেকে জিতে গিয়েছেন ৮৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে। সিপিআই(এম)-র কেএম রাধাকৃষ্ণন ৩১ হাজার ১২৪ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ৫২ হাজার ৯০৭ ভোটে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী।
এর্নাকুলাম ও মালাপ্পুরমের মতো নিজেদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে এগিয়ে রয়েছে ইউডিএফ। পাশাপাশি তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, কোঝিকোড় এবং পালক্কাড়ের বেশ কয়েকটি আসনেও এগিয়ে রয়েছে তারা।
আগেই জল্পনা শোনা গিয়েছিল, কেরলে কংগ্রেস জয়ী হলে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন শশী থারুর। জয় এক প্রকার নিশ্চিত হলেও, দলের হাইকম্যান্ডের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি এখনও।
#WATCH | Thiruvananthapuram | On UDF leading in Keralam, Congress MP Shashi Tharoor says, “There are many factors and the anti-incumbency against the 10-year tenure of the LDF. What is happening in Keralam is that youth from the state are migrating to other states and abroad… pic.twitter.com/U6JP6emPqs
— ANI (@ANI) May 4, 2026
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “একাধিক ফ্যাক্টর রয়েছে এই জয়ের পিছনে। এলডিএফের ১০ বছরে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী বিষয়ও রয়েছে। কেরলের যুবকরা অন্য রাজ্য এবং বিদেশে চলে যাচ্ছেন, কারণ চাকরির কোনও সুযোগ নেই এখানে। আমরা যদি রাজ্যে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতে পারি, সেটা ভাল হবে। মানুষের মনে স্বচ্ছ ধারণা ছিল যে তাঁরা পরিবর্তন চান। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে কী হল, তা বিশ্লেষণ করা দরকার।”