
নয়া দিল্লি: সকাল থেকেই বুক বেঁধেছিলেন সমর্থকরা। পঞ্চায়েত ভোটের পর, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ফের সিপিএম-এর উত্থান ঘটবে বলে আশা করেছিলেন তাঁরা। সৃজন, দীপ্সিতা, প্রতীক উরদের মতো তরুণ প্রার্থীরা ছিলেন। কিন্তু, সকাল থেকেই লাল পার্টির সমর্থকদের মুখ ভার। প্রথম হওয়া তো দূর, দ্বিতীয় স্থানেও নেই এই তরুণ নেতারা। তাহলে কোথায় জিতবে সিপিএম? ত্রিপুরা? না, সেখানেও লালের দেখা নেই। কেরলে দেখা যাক। সেখানেও দুই মেয়াদের বাম শাসনের পর, এই লোকসভায় দেখা গেল কংগ্রেসের ঝড়। সিপিএম-শাসিত রাজ্যও থেকেও জুটল মাত্র ১টি আসন। তাহলে কোথায় জিতল সিপিএম? কর্মী-সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাল রাজস্থান। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও মরু রাজ্যে দেখা গেল লালের উত্থান!
এবারের নির্বাচনে বড় চমকই বলা যায়। রাজস্থানের সবকটি আসনই বিজেপির ঝুলিতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল বুথ ফেরত সমীক্ষা। কার্যক্ষেত্রে তা মেলেনি। আর, রাজস্থানের সিকার আসন থেকে জয়ী হয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী অমরা রাম। ৬ লক্ষ ৫৯ হাজার ভোট পেয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজেপির সুমেধানন্দ সরস্বতীকে প্রায় ৭৩ হাজার ভোটে হারিয়েছেন তিনি। এই আসনে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। অমরা রাম এবং সুমেধানন্দ সরস্বতী ছাড়া আর কোনও প্রার্থী ১০ হাজার ভোটের গণ্ডি পার করতে পারেননি। রাজস্থান থেকে সিপিআইএম প্রার্থীর জয়, অনেককেই চমকে দিতে পারে। তবে, এই অঞ্চলে শ্রমিক এবং ছাত্র সংগঠনগুলির নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরেই জয়ী হয় বামপন্থী সংগঠনগুলি। কাজেই, বামেদের একটা প্রভাব এখানে ছিলই।
রাজস্থানে এই বিস্ময়কর উত্থান ছাড়া,সারা দেশ থেকে এইবার বলার মতো কিছুই নেই সিপিআইএম-এর পক্ষে। আসন সংখ্যা ২০১৯-এর থেকে একটি বেড়ে হয়েছে ৪। সিকারের পাশাপাশি, কেরলের আলাথুর এবং তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল এবং মাদুরাই থেকে জয়ী হয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ভোট পেয়েছে ১ কোটি ১৩ লক্ষের কিছু বেশি। সার্বিক ভোটের মাত্র ১.৭৬ শতাংশ।
বস্তুত ২০০৪ সালের পর থেকে ক্রমে অবক্ষয় হয়েছে সিপিআইএম-এর। ২০০৪-এ ৪৩টি লোকসভা আসনে জয়ী হয়েছিল সিপিআইএম। পশ্চিমবঙ্গে জিতেছিল ২৬টি, কেরলে ১২টি, তামিলনাড়ুতে ২টি, ত্রিপুরায় ২টি এবং অন্ধ্র প্রদেশে ১টি। ভোট পেয়েছিল ৫.৬৬ শতাংশ। ২০০৯-এ আসন সংখ্যা কমে হয় ১৬। পশ্চিমবঙ্গ থেকে জিতেছিল ৯টি, কেরল থেকে ৪টি, ত্রিপুরা থেকে ২টি এবং তামিলনাড়ু থেকে ১টি। ভোট পেয়েছিল ৫.৩৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে আসন সংখ্যা আরও কমে হয় ৯। কেরলে জিতেছিল ৫টি, পশ্চিমবঙ্গে ২টি এবং ত্রিপুরায় ২টি। ভোট পেয়েছিল ৩.৬ শতাংশ। ২০১৯-এ জিতেছিল ৩টি আসন। তামিলনাড়ু থেকে ২টি, কেরল থেকে ১টি। বাংলায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল সিপিআইএম। ভোট পেয়েছিল ১.৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের থেকে এবার আসন সংখ্যাও ১টি বাড়ল সিপিএম-এর, আর ভোটও বাড়ল ০.০১ শতাংশ।