
নয়াদিল্লি: পরপর তিনবার। গত দু-বারের মতো এবারও বিশ্ব সন্ত্রাস সূচকে এক নম্বরে পাকিস্তান। ইনস্টিটিউট অব ইকনোমিক্স অ্যান্ড পিস (IEP)-র তৈরি তালিকায় ‘সাফল্য’ ধরে রাখল প্রতিবেশী এই দেশ। তবে এবারের ‘সাফল্যে’ একটা টুইস্ট আছে। গত এক বছরে পাকিস্তান যত জঙ্গি খতম করেছে বা যতগুলো জঙ্গি দমন অভিযান চালিয়েছে, তার তুলনায় জঙ্গিহানায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। জঙ্গিদের তুলনায় অনেক বেশি পুলিশকর্মী, নিরাপত্তা কর্মী জঙ্গিহানার শিকার হয়েছেন। ছোট-বড় ব্যবসা, ধর্মীয় স্থান, স্কুল, পুলিশ চৌকি এমনকি সেনাঘাঁটির উপরও জঙ্গি হামলা হয়েছে।
গত এক বছরে পাকিস্তানে ৬৭৮টা বড়সড় জঙ্গি হামলার উল্লেখ করেছে ইনস্টিটিউট অব ইকনোমিক্স অ্যান্ড পিস। উল্টেদিকে জঙ্গি দমন অভিযান এবং খতম হওয়া জঙ্গিদের সংখ্যা সব মিলিয়ে ৫২৭। অর্থাত্ জঙ্গি হাসতে হাসতে পাক সেনা- পুলিশ- স্পেশাল ফোর্সকে হারিয়েছে। নাস্তানাবুদ করেছে। দুনিয়ার কোনও দেশেই এহেন লজ্জার নজির নেই। সন্ত্রাসের শিকার দেশের তালিকায় প্রথম দশে ভারতও রয়েছে। তবে গত এক বছরে ভারত সহ ৯টি দেশে জঙ্গি হামলা এবং জঙ্গি দমন অভিযানের সংখ্যা কমেছে। ১০টা দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানেই সংখ্যাটা বেড়েছে।
এই রিপোর্ট তৈরির নেতৃত্বে ছিলেন আমেরিকায় প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি। ইদানিং পাক সরকারের বিভিন্ন অপকীর্তি জনসমক্ষে এনে শাহবাজ শরিরফদের চক্ষুশূল হয়েছেন হাক্কানি। নিজের তৈরি রিপোর্টে কেন পাকিস্তানকে এক নম্বরে রাখলেন? হাক্কানির বক্তব্য বেশ মজার। পাকিস্তান সন্ত্রাসকে পরিকাঠামো ভেবে বহু বছর ধরে টাকা ঢেলেছে। পাকিস্তান এখান থেকে ভালো অঙ্কের রিটার্ন পাবে ভেবেছিল। এক বছরে ৮৬৭টা জঙ্গি হামলা। এই হচ্ছে পাকিস্তানের রিটার্ন। মজার কথা, গত সপ্তাহের শেষে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় একইভাবে পাকিস্তানকে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।