
নয়া দিল্লি: নেহরুর রেকর্ড ভেঙে স্বাধীন ভারতের নির্বাচিত দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। একটানা ৪৩৯৯ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আজই জওহরলাল নেহরু (Jawaharlal Nehru)-র রেকর্ড ভাঙলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১২ বছর পূর্ণ করলেন। বিগত এই ১২ বছরে কী কী করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন নিজে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহেরু। মোট ৪৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ৬২ বছরের সেই রেকর্ড ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আজ, ১০ জুন তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ৪৩৯৯ দিন পূরণ হল।
বিগত ১২ বছরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি জানান যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর সরকার আগামিদিনেও “সেবা, সুশাসন এবং সমৃদ্ধি”-কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাবে।
हमारी सरकार के बीते 12 वर्ष विश्वास, विकास और जनकल्याण को समर्पित रहे हैं। 140 करोड़ देशवासियों के आशीर्वाद और राष्ट्र प्रथम की भावना से हमने युवाओं, महिलाओं और अपने किसान भाई-बहनों को सशक्त बनाने में कोई कोर-कसर नहीं छोड़ी है। यह हमारे अथक प्रयासों का ही परिणाम है कि… pic.twitter.com/URtsOWF4BT
— Narendra Modi (@narendramodi) June 9, 2026
বিনামূল্যে রেশন: দেশের ৮১ কোটিরও বেশি মানুষ সরকারি প্রকল্পের আওতায় ফ্রি রেশন বা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন।
আবাসন ও স্যানিটেশন: ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র অধীনে ৪ কোটিরও বেশি পাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ১২ কোটিরও বেশি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
উজ্জ্বলা যোজনা: দেশের ১০.৫ কোটিরও বেশি পরিবারকে বিনামূল্যে এলপিজি (LPG) গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: ৩২ কোটিরও বেশি মহিলাদের জন ধন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
লাখপতি দিদি: ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩ কোটি মহিলার বার্ষিক আয় কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।
সেনাবাহিনীতে সুযোগ: সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলা অফিসারদের জন্য স্থায়ী কমিশন (Permanent Commission) মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ১০ কোটিরও বেশি গ্রামের মহিলা ৯১ লক্ষেরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
মেগা প্রজেক্ট: অটল সেতু, সুদর্শন সেতু, চেনাব রেল ব্রিজ, বগীবিল ব্রিজ এবং পাম্বান সি ব্রিজের মতো বিশাল সব পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে।
রেল ও বিমান: দেশের ২৬টি শহরে মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ১৬৪টি বন্দে ভারত ট্রেন দেশজুড়ে ছুটছে। পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬৪ হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত: এই সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকেরাও এই প্রকল্পের অধীনে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন।
সস্তায় ওষুধ: দেশের ১৯,০০০-এরও বেশি ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ থেকে সাধারণ মানুষ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে সস্তায় ওষুধ কিনতে পারছেন।
দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্টার্টআপ: সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অধীনে প্রায় ২ কোটি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে স্বীকৃত স্টার্টআপের সংখ্যা ২.২ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
মুদ্রা যোজনা: এই যোজনার অধীনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ৪০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বাড়াতে ১০,০০০-এর বেশি ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ গড়া হয়েছে।
আয়করে ছাড়: নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, যাদের বার্ষিক আয় ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, তাদের কার্যত কোনও আয়কর দিতে হচ্ছে না।
সস্তায় বিমান যাত্রা ও শিক্ষা: ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের মাধ্যমে ১.৬ কোটিরও বেশি যাত্রী কম খরচে বিমান যাত্রা করেছেন। এছাড়া দেশে ডাক্তারি পড়ার (MBBS) আসন সংখ্যা ১৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১.৩ লক্ষে পৌঁছেছে।
সরাসরি আর্থিক সাহায্য: ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ (PM-Kisan) প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪.৩ লক্ষ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।
ফসল বিমা ও সংগ্রহ: ৪ কোটিরও বেশি কৃষককে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ফসল বিমার টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ২৬ লক্ষ কোটি টাকার ফসল কেনা হয়েছে। প্রায় ৮ কোটি কৃষককে কিসান ক্রেডিট কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা রফতানি: ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮,৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সন্ত্রাসবাদ ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করা হয়েছে।
ঔপনিবেশিক প্রথার অবসান: দিল্লিতে রাজপথের নাম পরিবর্তন করে ‘কর্তব্য পথ’ রাখা হয়েছে এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন পতাকা (Ensign) গ্রহণ করা হয়েছে।
অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ ধাম, মহাকাল লোক ও কেদারনাথ ধামের মতো প্রধান তীর্থক্ষেত্রগুলির পুনরুন্নয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং আধুনিক উন্নয়নকে একসঙ্গে বজায় রেখেই ভারত এগিয়ে চলেছে।