
ভদোদরা: কুইনের বিখ্যাত গান ‘উই উইল রক ইউ’। তারপরই বাজল সুপারহিট ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর ‘আরি আরি’। ঠিক সেইসময় গুজরাটের ভদোদরায় মঞ্চে গ্র্যান্ড এন্ট্রি নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। চারপাশে তখন তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস। তাঁদের উদ্দেশে হাত নাড়তে নাড়তেই মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুবসমাজকে ‘মিথ্যা প্রচারে’ বিভ্রান্ত না হওয়ার বার্তা দেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ তুলেই রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
গুজরাটে ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ অনুষ্ঠানে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই নাম না করে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীদের নিশানা করেন মোদী। কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ কটাক্ষ করে বলেন, “কিছু মানুষের ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু যুবসমাজ সত্যের পাশেই থাকবে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ প্রচারকেই কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঝুঠ কি গুঞ্জ’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ওয়েবসাইট সম্প্রতি দাবি করেছিল, ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির চারটি অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর ৪০টি বক্তব্য যাচাই করে তারা ২৯টিকে ‘মিথ্যা এবং ১১টিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে চিহ্নিত করেছে।
দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। মোদী জানান, সম্প্রতি মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্ট (JNPT) থেকে ভদোদরা পর্যন্ত ডাবল-স্ট্যাক কন্টেনারবাহী মালগাড়ি চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, একটি ট্রেনেই যে পরিমাণ পণ্য পরিবহণ হয়েছে, তা ২৫০টিরও বেশি ট্রাকের সমান।
এরপরই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন মোদী। ‘নারাজ ফুফা’-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এবার কেউ হয়তো অভিযোগ করবেন, ‘তাহলে ট্রাকচালকদের কী হবে? ট্রাকগুলি কোথায় যাবে? যাঁরা ট্রাক কিনেছেন, তাঁদের কী হবে?” প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ, অভিযোগ করার জন্য ‘ফুফা’ এবার নতুন বিষয় পেয়ে গিয়েছেন।
ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের প্রসঙ্গ তুলে পূর্ববর্তী সরকারকেও নিশানা করেন তিনি। মোদীর দাবি, ২০১৪ সালের আগে সাত-আট বছর ধরে প্রকল্পটি চললেও এক কিলোমিটার করিডরের কাজও সম্পূর্ণ হয়নি।
তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিয়েও বড় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের দেশের সেরা শিক্ষকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং দেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা কমবে বলে মনে করেন তিনি।
মোদী বলেন, “বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার সঙ্গে শিক্ষা ও শেখার পদ্ধতিও পাল্টে যাচ্ছে। আগে শুধুমাত্র ডিগ্রির উপর জোর দেওয়া হত। এখন ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতার গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। একইসঙ্গে সন্তানদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিংয়ের জন্য মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে আয়ের বড় অংশ খরচ করতে হয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।