
নয়া দিল্লি: দিন-প্রতিদিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) পরিস্থিতি। রাশিয়ার লাগাতার গোলা-গুলি বর্ষণে জ্বলেপুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ। আহত ও মৃতের সংখ্যাও ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বাধ্যে হয়েই এখনও অবধি প্রায় ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই ইউক্রেনে (Ukraine) আটকে পড়েছিলেন প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় (Indians), যাদের মধ্যে অধিকাংশই পড়ুয়া। কেন্দ্রের তৎপরতায় দ্রুত আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চলছে শেষদফার উদ্ধারকার্য। এরইমাঝে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কি(Volodymyr Zelenskyy)-র সঙ্গে কথা বলতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আজই প্রধানমন্ত্রী মোদী ইউক্রেনের প্রেসি়ডেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেই দুই দেশের প্রধান কথা বলেছিলেন। এছাড়া তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন সকালেই সরকারি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েই কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয়দের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধারকার্যে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, ইউক্রেনের সুমিতে এখনও যে সমস্ত ডাক্তারি পড়ুয়ারা আটকে রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া যেহেতু ইউক্রেনের উপরে ক্রমশ হামলা বাড়িয়েই চলেছে, সেই কারণে ভারতের সাহায্যও প্রার্থনা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কি। উল্লেখ্য, এর আগেও ভারতের কাছে যুদ্ধে সহায়তার আবেদন জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ শুরুর পর একদিকে যেমন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তেমনই গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও কথা বলেন।
সেই সময় জানা গিয়েছিল যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছিলেন। সমস্যা সমাধানের জন্য যাতে দ্রুত আলোচনায় বসে রাশিয়া, তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আবেদন জানিয়েছেিলেন জ়েলেনস্কি।
একইসঙ্গে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। যুদ্ধ শুরুর পর পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শান্তিপূর্ণভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেছিলেন তিনি। এবারেও তিনি যুদ্ধ থামানোর আর্জিই জানাবেন তিনি, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।