
নয়া দিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের জন্মদিনে আবেগঘন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সমাজ সংস্কারের জন্য কীভাবে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) তাঁর জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন, তা উল্লেখ করলেন তিনি। মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর নানা স্মৃতি ভাগ করে নিলেন।
আজ, ১১ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছরে পা দিলেন মোহন ভাগবত। তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, “মা ভারতীর সেবায় দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করি। বসুদেব কুটুম্বকমের নীতিতেই অনুপ্রাণিত হয়ে মোহন ভাগবতজি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন সমাজের সংস্কার ও সকলের মধ্যে মিলমিশ আরও মজবুত করতে”।
তিনি লেখেন, “আজ ১১ সেপ্টেম্বর। এই দিনটি দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে মনে করায়। ১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোতে বক্তব্য রেখেছিলেন। মাত্র কয়েকটি শব্দেই তিনি হলে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মন জিতে নিয়েছিলেন। ভারতের ঐতিহ্য ও সৌভ্রাতৃত্বকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় ঘটনা হল ৯/১১ হামলা। আজ মোহন ভাগবতজির ৭৫ তম জন্মদিন, ঘটনাক্রমে এই বছরই আরএসএস শতবর্ষে পা দিচ্ছে। ওঁকে শুভেচ্ছা জানাই এবং দীর্ঘ জীবনের কামনা করি”।
মোদী আরও বলেন, “মোহনজি ১৯৭০-র দশকে প্রচারক হয়েছিলেন। আরএসএসের শুরুর দিনগুলি ভারতীয় ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় ছিল। এই সময়ই কংগ্রেস সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। মোহনজি ও আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চল, বিশেষ বিদর্ভে কাজ করেছিলেন।”
মোহন ভাগবতের কাজের উদাহরণ দিয়ে মোদী লেখেন, “ভাগবতজি বহু বছর ধরে আরএসএসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি দ্বায়িত্বই তিনি পূরণ করেছেন। ১৯৯০-র দশকে যখন তিনি অখিল ভারতীয় শারীরিক প্রমুখ ছিলেন, তার কথা বহু স্বয়ংসেবক মনে রেখেছেন। তিনি বিহারের গ্রামে গিয়েও কাজ করেছেন। তৃণমূল স্তরের নানা ইস্যু নিয়ে লড়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি সরসংঘচালক হন। সরসংঘচালক শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের থেকেও অনেক বেশি। ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ করেছেন তিনি। ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি থেকে অনুপ্রেরিত। আরএসএসের ১০০ বছরের যাত্রায় মোহন ভাগবতজির অনুদান মনে থাকবে।”
স্বয়ংসেবকদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “বিশেষভাবে করোনাকালে মোহনজির কাজ ও পরিশ্রম আমার মনে রয়েছে, যখন গোটা মানবসভ্যতা মহামারির সঙ্গে লড়ছিল। সেই সময় মোহনজি পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর জন্য। সেই সময় যাদের প্রয়োজন, তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল স্বয়ংসেবকরা। মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা কতজন কঠোর পরিশ্রমী স্বয়ংসেবকদের হারিয়েছি।” চলতি বছরেই নাগপুরে মাধব নেত্র চিকিৎসালয়ের উদ্বোধন করতে গিয়ে আমি বলেছিলাম যে আরএসএস অক্ষয়ভাটের মতো। এমন বটবৃক্ষ যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও চেতনাকে শক্তি দেয়।”