
নয়া দিল্লি: খাদ্যভাস থেকে পোশাক-আশাক, ভারতীয় সমাজব্যবস্থার বিবিধ রূপ প্রায়শই ঝড় তুলছে রাজনীতির আঙিনায়। ভোটের ময়দানে হাতিয়ার হয়েছে রাজনীতিবিদদের। এবার যেন ভাষা নিয়ে রাজনীতি দিনে দিনে আরও তীব্রতর হচ্ছে। সম্প্রতি গোটা দেশে হিন্দির একচ্ছত্র আধিপত্য সরব হতে দেখা গেল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ছেড়ে কথা বললেন না রাহুল গান্ধীকেও। যা নিয়েই এখন তুমুল চর্চা দিল্লি থেকে দাক্ষিণাত্যে।
স্ট্যালিনের দাবি, হিন্দির দাপটে নাভিশ্বাস উঠছে ভারতের একগুচ্ছ আঞ্চলিক ভাষার। এ নিয়ে করা একটি পোস্টে তিনি হিন্দিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। স্ট্যালিন লিখছেন, ‘অন্যান্য রাজ্যের প্রিয় ভাই-বোনেরা তোমরা কি কখনও ভেবে দেখেছ যে হিন্দি কতগুলি ভারতীয় ভাষাকে গ্রাস করেছে? ভোজপুরি, মৈথিলী, ব্রজ, বুন্দেলি, গড়োয়ালি, কুমাওনি, মাগাহি, মারোয়ারি, মালভি, ছত্তিশগড়ি, সাঁওতালি, অঙ্গিকা, খারিয়া, খোর্থা, কুরমালি, কুরুখ, মুন্ডারি এবং আরও অনেক ভাষা এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে।’ তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার কখনই কেবল হিন্দি ভাষার শক্ত ঘাঁটি ছিল না। তাদের আদি ভাষাগুলি এখন অতীতের ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
স্ট্যালিনের এই পোস্ট দেখেই চাঁচাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। একহাত নিয়েছেন রাহুল গান্ধীকেও। খোঁচা দিয়েই লিখেছেন, “সমাজকে বিভক্ত করার এই ধরনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা কখনই খারাপ শাসনকে আড়াল করতে পারে না।” একইসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, রাহুল কী স্ট্যালিনের সঙ্গে এক মত? কারণ তিনিও তো এক হিন্দিভাষী আসনেরই সাংসদ।