
নয়াদিল্লি: ৮,৮৪৮ পৃষ্ঠা। ২১ লক্ষেরও বেশি শব্দ। এক জীবনের সেবার কাহিনি। প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবনী গড়ল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। একজন লেখকের লেখা বিশ্বের দীর্ঘতম জীবনী হিসেবে স্বীকৃতি পেল ১৩ খণ্ডের এই গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। আধ্যাত্মিক ইতিহাস নথিবদ্ধ করা এবং প্রমুখ স্বামী মহারাজের উত্তরাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে BAPS-এর এই কাজকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবন ও কর্মের উপর লেখা ১৩ খণ্ডের একটি জীবনী গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে একজন লেখকের লেখা বিশ্বের দীর্ঘতম জীবনী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘Brahmaswarup Pramukh Swami Maharaj: Vistrut Jivan ane Karya’ নামে এই জীবনী লিখেছেন সংস্কৃতের পণ্ডিত সাধু আদর্শজীবনদাস। এতে BAPS Swaminarayan Sanstha-র প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা প্রমুখ স্বামী মহারাজের ৯৪ বছরের জীবন ও উত্তরাধিকার (১৯২১–২০১৬) তুলে ধরা হয়েছে।
প্রমুখ স্বামী মহারাজের আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, বিনয়, ভক্তি এবং নিঃস্বার্থ সেবার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও সম্প্রদায়ের সেবা এবং তাঁদের অনুপ্রাণিত করার কাজও এই গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের অগস্ট পর্যন্ত ৩৮ মাস ধরে গবেষণা ও লেখার কাজ চলে।
১৩ খণ্ডের এই জীবনীর জন্য গতকাল (৪ অক্টোবর) লন্ডনে মহন্ত স্বামী মহারাজের হাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের শংসাপত্রটি তুলে দেওয়া হয়। গতকাল লন্ডনে মহন্ত স্বামী মহারাজের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দেখেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের শংসাপত্র হাতে মহন্ত স্বামী মহারাজ
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সিনিয়র অ্যাডজুডিকেটর কার্ল স্যাভিল শংসাপত্রটি তুলে দিয়ে বলেন, একজন লেখকের লেখা দীর্ঘতম জীবনী হিসেবে এই স্বীকৃতি প্রদান করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত। তাঁর বক্তব্য, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মূল উদ্দেশ্যই হল বিশ্বের অসাধারণ ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করা এবং এমন অনন্য ও বিশেষ কৃতিত্বকে তুলে ধরা, যা এর আগে আর কেউ অর্জন করতে পারেননি।
মহন্ত স্বামী মহারাজের হাতে শংসাপত্র তুলে দিচ্ছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সিনিয়র অ্যাডজুডিকেটর কার্ল স্যাভিল
সাধু আদর্শজীবনদাস বলেন, “এই জীবনী যার জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে, তিনি লেখকের চেয়ে অসীম গুরুত্বপূর্ণ। প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবন ছিল গভীর আধ্যাত্মিকতা, অসাধারণ বিনয় এবং বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতায় পূর্ণ। তাঁর ঐশ্বরিক জীবন ও চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারকে নথিবদ্ধ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।”
শুধু বিপুল আকারের একটি জীবনী নয়, এই গ্রন্থ আধ্যাত্মিকতা, সেবা এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি জীবনের ঐতিহাসিক নথি হিসেবেও কাজ করছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবন ও কর্ম সংরক্ষণ করাই এই গ্রন্থের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই বইটির ৩ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।
BAPS-এর জন্য এটি দ্বিতীয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বদোদরায় ১২,৭২৩ জন শিশু একসঙ্গে ‘সৎসঙ্গ দীক্ষা’ থেকে সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করে। এর ফলে তৈরি হয় Largest Simultaneous Hindu Text Recital-এর বিশ্বরেকর্ড। বৃহত্তর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু ৩১৫টি সংস্কৃত শ্লোক মুখস্থ করেছিল।
সাধু আদর্শজীবনদাস-
সাধু আদর্শজীবনদাস একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক এবং BAPS স্বামী। তিনি প্রথমে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন। পরে সংস্কৃতে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন এবং দুটি বিষয়ে ডক্টরেট অর্জন করেন। তিনি ১৭টি বই লিখেছেন, আরও ৮টি বইয়ের সহ-লেখক এবং ৩০০-রও বেশি বড় মাপের নাটক রচনা করেছেন।
প্রমুখ স্বামী মহারাজ সম্পর্কে আরও জানুন-
প্রমুখ স্বামী মহারাজ (১৯২১–২০১৬) ছিলেন ভগবান স্বামীনারায়ণের পঞ্চম আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি এবং বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা। তাঁর মূলমন্ত্র ছিল—“অন্যের আনন্দেই আমাদের আনন্দ।” এই আদর্শে তিনি মানবকল্যাণে অন্যদের সেবা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করে নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ভালোবাসা, শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়পরায়ণতা এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন।
তাঁর নেতৃত্বে BAPS একটি আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক ও মানবিক সংগঠনে পরিণত হয়। বর্তমানে সংগঠনটির ১০ লক্ষেরও বেশি সদস্য, ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫,০২৫টি কেন্দ্র রয়েছে। প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবন, কর্ম ও শিক্ষার বিষয়ে আরও জানতে পারবেন pramukhswami.org নামে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে।