
পুরী: রথযাত্রায় ঘোর বিপত্তি। রথ থেকে পড়ে গেলেন বলভদ্র। পুরীর মন্দির থেকে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচায় পৌঁছতেই ঘটল বিপত্তি। রথ থেকে নামাতে গিয়ে পড়ে গেল বলরাম দেবের বিশালাকার কাঠের মূর্তি। নীচে চাপা পড়ে যান বেশ কয়েকজন সেবায়েত। আহত কমপক্ষে ৭ জন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে, বলরাম দেবের মূর্তি পড়ে যাওয়ায় ভীত ভক্তরা। ইতিহাসে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল।
মঙ্গলবার বিকেলে গুণ্ডিচা মন্দিরের আদপ মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মাসির বাড়ি গুণ্ডিচায় রথ পৌঁছনোর পর ‘পাহণ্ডি’ আচার পালন করা হচ্ছিল। সেবায়েতরা একে একে জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও সুভদ্রা দেবীর মূর্তি দোলাতে দোলাতে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই পিছলে পড়ে যায় বলভদ্রের মূর্তি।
পুরী প্রশাসন সূত্রে খবর, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বলরাম দেবের রথ ‘তালধ্বজে’র বিভিন্ন অংশ পিছল হয়ে গিয়েছিল। রথ থেকে যখন বলভদ্রের মূর্তি নিয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে তোলা হচ্ছিল, তখনই আচমকা সেবায়েতরা পিছলে পড়ে যান রথের উপর থেকেই। তাঁদের হাতেই ধরা ছিল বলভদ্রের মূর্তিটি। সেটিকে নিয়েই রথের উপর থেকে নিচে পড়েন তারা।
ভিড়ে ঠাসা ওই অংশে হইচই পড়ে যায়। প্রথমে মূর্তিটিকে তোলা হয়, তারপর সেই মূর্তির তলায় চাপা পড়ে থাকা সাতজন সেবায়েতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে পুরী প্রশাসন সূত্রে খবর।
যদিও বাকি দুটি রথ থেকে জগন্নাথ দেব এবং সুভদ্রার মূর্তি নিরাপদভাবেই গুণ্ডিচা মন্দিরের তোলা গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
ইতিহাসে প্রথমবার এই ধরনের ঘটনা ঘটল বলে পুরী প্রশাসন সূত্রে খবর। দুর্ঘটনার খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। ওড়িশার আইনমন্ত্রী পার্থিরাজ হরিচন্দনকে অবিলম্বে পুরী যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। আহত সেবায়েতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।