
নয়া দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর এবার কি প্রতিশোধের পালা? বড় ইঙ্গিত তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee)। ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটতে চলেছে বড় কোনও ঘটনা’, দাবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে কী ঘটবে, তা স্পষ্ট করতে চাননি আইনজীবী-সাংসদ।
তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) পরিচয়েই এখনও সংসদে যোগ দিতে হচ্ছে বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকে। এনসিপিআই (NCPI) দল এখনও স্পিকার ওম বিড়লার কাছ থেকে মান্যতা পায়নি। তাই গতকাল তৃণমূল পরিচয়েই এনডিএ বৈঠকে (NDA Meeting) যোগ দিতে হয়েছে ২০ সাংসদকে। এবার এই ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে তৃণমূল। এনসিপিআই দল নিয়ে লোকসভার স্পিকার সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই, সুপ্রিম কোর্ট যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখনই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত বলে অভিষেকের কাছে আবেদন করেছেন কল্যাণ। মমতা-অভিষেকের তরফে সবুজ সঙ্কেত এলেই এনসিপিআই-এর বৈধতা তথা ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ বিরোধী আইন লাগু হওয়ার বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হতে পারে।
এনসিপিআই সাংসদদের এনডিএ বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এরা গদ্দার। পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে এতজন গদ্দার জন্ম নেয়নি আগে। মির্জাফর একজন বেইমান ছিল, এখানে ২০ টা গদ্দার। সুপ্রিম কোর্টে এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যেদিন থেকে ওরা এনসিপিআই-তে গিয়েছে, সেদিন থেকেই ডিফেকশন লাগু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি আমি। দল যদি সিদ্ধান্ত নেয়। এরা ডিফেক্টেড এমপি। তাই ওরা কোথায় মিটিংয়ে গিয়েছে, যায় আসে না। এরা তো ২০ জন সাংসদ, পশ্চিমবঙ্গে এনসিপিআই-র ২০ জন সাংসদও নেই। ২০ জন মিলে একটা মিটিং ডাকতে পারেনি কলকাতায়। এরা সময় কাটানোর জন্য গিয়েছে। কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ বড় বড় কথা বলছেন। কেউ বিশাল খুশি, হাওয়াতে উড়ছে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী, যেদিন থেকে ওরা গিয়েছে (দল ছেড়ে), সেদিন থেকে আর মেম্বারশিপ নেই। এবং সুপ্রিম কোর্ট যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটাই সিদ্ধান্ত হবে। দুই-তৃতীয়াশের হিসাবে হয় না। সেটা আসল পার্টি গেলে হয়।”
প্রসঙ্গত, প্রথম বৈঠকে ডাক না পেলেও, সংসদে এনডিএ-র বড় মুখদের পাশে বসেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এসে এনডিএ-র বাকি সাংসদদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। এনডিএ-র দ্বিতীয় বৈঠকেও সামিল হয়েছিল এনসিপিআই।
স্পিকারের কাছে আর্জি নিয়ে কল্যাণ বলেন, “স্পিকার সিদ্ধান্ত নেননি বলে তো আমরা বসে থাকতে পারিনা। আমি তাই পরামর্শ দিয়েছি যে সুপ্রিম কোর্টে যান। এবার আমাদের দলের তো বড় বড় আইনজীবী আছে, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এনসিপিআই ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যা পোস্টার পড়েছে, ঠিক পোস্টার। ওর মতো বেইমান, গদ্দার, সুবিধাবাদী আছে নাকি। শরীরও ঠিক নেই, মাথারও ঠিক নেই। ২০ জনেরই ট্রিটমেন্টের দরকার। ২০ জন বাড়ি থেকে বেরতে পারে না। স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছিল, তাতে স্পষ্ট লিখেছিল যে এনসিপিআই-তে যাচ্ছি। স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণ করেছে, আমাদের আগে বসার জায়গা দিয়েছে।”
২১ জুলাইয়ের পরও বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের জন্য দরজা খোলা আছে কি না, সেই প্রশ্নে কল্যাণ বলেন, “আগামী সপ্তাহের পরই আশা করি একটা কিছু দেখতে পাবেন। একটু অপেক্ষা করুন। আগামী সপ্তাহ বা তার পরে আমার কাছে আসতে হবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা না হলেও, তিনি টেক্সট করেছিলেন বলে জানান কল্যাণ। তার জবাবে কল্যাণ পরামর্শ দেন যে তৃণমূলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত।